শিরোনাম
২৪ নভেম্বর, ২০২২ ২০:২৭

স্বর্ণ চোরাচালান ও অর্থপাচার বন্ধে একসঙ্গে কাজ করবে বিএফআইইউ ও বাজুস : সায়েম সোবহান আনভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বর্ণ চোরাচালান ও অর্থপাচার বন্ধে একসঙ্গে কাজ করবে বিএফআইইউ ও বাজুস : সায়েম সোবহান আনভীর

বাংলাদেশ ব্যাংকে বিএফআইইউ-এর সঙ্গে বাজুস প্রতিনিধি দলের বৈঠক

স্বর্ণ চোরাচালান ও অর্থ পাচার বন্ধে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) একসঙ্গে কাজ করবে। বাজুসের কোন সদস্য যদি অর্থ চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে বাজুসের ৪০ হাজার সদস্যের ডেটাবেজ বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয়া হবে। বাজুস চায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে থাকা স্বর্ণ দ্রুত নিলামে দেওয়া হোক।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও বাজুস প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীর।  

অর্থ পাচার ও ডলার সংকটের নেপথ্যে রয়েছে স্বর্ণ চোরাচালান। অপরাধ করেও অনেকে আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। খালাস পেয়ে একই অপরাধে ফের জড়িত হচ্ছে। তাই স্বর্ণ  চোরাচালান বন্ধে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে জামিন অযোগ্য মামলা দেয়ার পক্ষে মত দেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। কঠোর আইনের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াতে সব ধরণের সহযোগীতার আশ্বাস দেয়  নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। 

আজ বাংলাদেশ ব্যাংকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর সঙ্গে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক সভায় এ প্রস্তাব দেন সংগঠনের নেতারা। স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে যৌথ কার্যক্রম গ্রহণে চলমান বিষয়ে এ সভা হয়। বিএফআইইউ এর প্রধান কর্মকর্তা মো. মাসুদ বিশ্বাস সভায় সভাপতিত্ব করেন। বাজুসের প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সভায় অংশগ্রহণ করেন।

এসময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জিএম আবুল কালাম আজাদ বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন এন্টি স্মাগলিং অ্যান্ড ল’ এনফোর্সমেন্টের চেয়ারম্যান এনামুল হক খান দোলন ও সাধারণ  সম্পাদক দিলিপ কুমার আগারওয়ালা ছাড়া বিএফআইইউ এর উপপ্রধান ও পরিচালকসহ ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, বাজুসের তালিকায় ৪০ হাজার ব্যবসায়ী রয়েছে। আমরা বিএফআইইউকে এসব ডাটাবেজের তথ্য দেব। তারা তথ্য পর্যবেক্ষণ করবে। তিনি আরো বলেন, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চোরাচালান বন্ধে আইন থাকলেও আইনের প্রয়োগ নেই। আইন করে কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সারাদেশে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নয়। যারা চোরাচালান করে তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হলে আইনের প্রয়োগ লাগবে। আমরা দেখতে পাই অবৈধ স্বর্ণ ধরা পড়েছে। যারা ধরা পরে কিছু দিন পর জামিনে বেরিয়ে ফের একই অপরাধ করে। তাই রুমে বসে কথা বলে কোন কাজ হবে না। চোরাচালান ঠেকাতে হলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। 

বৈঠকে বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে বিএফআইইউ এর ভূমিকা তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন এন্টি স্মাগলিং অ্যান্ড ল’ এনফোর্সমেন্টের চেয়ারম্যান এনামুল হক খান দোলন সাংবাদিকদের জানান, বিএফআইইউ ও বাজুস এক সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায় এজন্য এ বৈঠক হয়েছে। এসময় স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধ ও ব্যবসার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে একসঙ্গে কাজ কারবো বলে একমত হয়েছি। আমরা আমাদের সদস্যদের স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করবো।    

এক প্রশ্নের উত্তরে বাজুস সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার  আগারওয়ালা বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো বাজুসের সদস্য স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ হয়নি। আগামীতে যদি কোনো সদস্য চোরাচালান করছে এমন তথ্য পাওয়া যায় তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

তিনি জানান, অবৈধভাবে আসা বা চোরাচালানের সময় জব্দ করা স্বর্ণ নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ দাবি আমাদের অনেক আগে থেকেই ছিল। আমরা চাই ডলার সংকটের এ সময়ের জব্দকৃত বার নিলামে বিক্রি করা হোক। এসব র'মেটারিয়াল আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে, কারণ আমাদের এখানে বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারির মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আমরা চাই অবৈধভাবে স্বর্ণবার আনা বন্ধ হোক তাহলে চোরাচালানের মাধ্যমে যে মানি লন্ডারিং হচ্ছে তা অনেক কমে যাবে।

সভায় লিখিতভাবে বাজুসের পক্ষ থেকে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে যৌথ মনিটরিং সেল গঠনসহ ৭ প্রস্তাব দিয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। সেগুলো হলো :

১. স্বর্ণ চোরাচালান ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং চোরাকারবারিদের চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাজুসের সমন্বয়ে যৌথ মনিটরিং সেল গঠন করা।
২. চোরাকারবারিরা যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে আরো কঠোর আইন প্রণয়ন করা।
৩. স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেমন : বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের জোড়ালো অভিযান নিশ্চিত করা।
৪. চোরাচালান প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের সদস্যদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট পরিমাণের ২৫ শতাংশ সংস্থা সমূহের সদস্যদের পুরস্কার হিসেবে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৫. ব্যাগেজ রুলের আওতায় স্বর্ণের বার ও অলংকার আনার সুবিধা অপব্যবহারের কারণে ডলার সঙ্কট, চোরাচালান ও মানি লন্ডারিংয়ে কী প্রভাব পড়ছে, তা নিরূপণে বাজুসকে যুক্ত করে যৌথ সমীক্ষা পরিচালনা করা।
৬. অবৈধ উপায়ে কোন চোরাকারবারি যেন স্বর্ণের বার বা অলংকার দেশে আনতে এবং বিদেশে পাচার করতে না পারে, সেজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।
৭. জল, স্থল ও আকাশ পথ ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে কেউ যাতে স্বর্ণের বার বা অলংকার আনতে না পারে এজন্য কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর