শিরোনাম
৭ জুন, ২০২৪ ২০:০২

রিমান্ড শেষে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে জিহাদ

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

রিমান্ড শেষে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে জিহাদ

জিহাদ হাওলাদার (গোল চিহ্নিত), সংগৃহীত ছবি।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজন ব্যক্তি জিহাদ হাওলাদারকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের (জেল হেফাজত) নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের আদালত। ২ দিনের সিআইডি হেফাজত শেষে শুক্রবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত জেলা ও দায়রা আদালতে তোলা হয় জিহাদকে। তাকে তোলা হয় আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভঙ্কর বিশ্বাসের এজলাসে। 

এসময় আদালত তাকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন। সেক্ষেত্রে আগামী ২১ জুন ফের তাকে আদালতে তোলা হবে। 

এদিকে আদালতের এই রায়ের পরেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় দমদমের কেন্দ্রীয় কারাগারে। আপাতত সেখানেই থাকবেন তিনি। তবে প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তারা কারাগারে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। 

এর আগে গত ২৩ মে জিহাদকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। ২৪ মে প্রথমবার তাকে বারাসাত আদালতে তোলা হয়। এরপর মোট ২ দফায় ১৪ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন আদালত। 

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ), ৩০২ (অপরাধমূলক নরহত্যা), ২০১ (তথ্য প্রমাণ লোপাট) এবং ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র)- এই চার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে।  

নিজেদের হেফাজতে নিয়ে সিআইডি জিহাদের বক্তব্য যাচাই করার পাশাপাশি তাকে সাথে নিয়ে খুন হয়ে যাওয়া সংসদ সদস্যের শরীরের অঙ্গগুলি উদ্ধার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। এমনকি জিহাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ভাঙড়ের বাঘজোলা খাল, নিউটনের হাতিশালা খালেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তবুও ওই খাল থেকে এমপি আনারের লাশের টুকরোর সন্ধান মেলেনি। 

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে সঞ্জীবা গার্ডেনে এমপি আনারকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওইদিন এমপি ঢোকার আগে থেকে উপস্থিত ছিল অভিযুক্ত জিহাদ। সেদিন বিকালের দিকে এমপি আবাসনে ঢোকার পর বাইরের ধকল কাটাতে বেসিনে হাত-মুখ ধুচ্ছিলেন। সেই সময়ই পিছন থেকে ক্লোরোফোম দিয়ে তাকে বেহুশ করা হয়। তারপর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর জিহাদ কসাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এমপির চামড়া থেকে মাংস আলাদা করে সেগুলোকে তিনটি প্লাস্টিকের ডিস্পোজাল ক্যারিব্যাগে ভরে রাখে। পরে সেই লাশের টুকরোগুলোকে ট্রলিব্যাগে ঢোকায় এবং সেইগুলোকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার ভাঙ্গড় কৃষ্ণ মাটি এলাকায় আলাদা আলাদা করে ফেলা হয়। জিহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনটাই জানতে পেরেছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। 

জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আখতারুজ্জামান শাহীনের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলেও স্বীকার করে জিহাদ। মূলত আখতারুজ্জামানের নির্দেশে জিহাদসহ ৪ জন ওই সাংসদকে তার নিউ টাউনের ওই ফ্ল্যাটে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর