শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০২:১২

সরকার ঔপনিবেশিক শক্তির প্রতিনিধি

-------- মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার ঔপনিবেশিক শক্তির প্রতিনিধি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও বিপক্ষের শক্তি বলে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ‘যারা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, হ্যাঁ তারা মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু যারা পলায়নপর, ভীত রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে কাপুরুষের মতো পালিয়েছিল তারা কি মুক্তিযোদ্ধা ছিল? এ প্রশ্ন আমাদের সাহস করে বলতে হবে।’ বর্তমান সরকারকে ঔপনিবেশিক শক্তির প্রতিনিধি বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় মঈন খান এসব কথা বলেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে ও লায়ন সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি মির্জা আফরোজা আব্বাস প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

বিএনপি ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে মঈন খান বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যে দলের জন্মই হয়নি, সে দলটি কীভাবে স্বাধীনতাবিরোধী হয়। যে দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান, সে দলকে তারা (আওয়ামী লীগ) কীভাবে বলে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি? সেদিন বিএনপি নামে তো কোনো সংগঠন ছিল না। ’৭৫ সালের ঘটনার সেই সাইকোলজিতে কেন তারা বিএনপিকে শত্রু হিসেবে ভাবে? এর কারণ হলো, আওয়ামী লীগের একটি সমস্যা হয়েছে। সে সমস্যাটির নাম হীনম্মন্যতাবোধ। দিনের বেলায় মিডিয়া-টেলিভিশনে আওয়ামী লীগ নেতারা যা-ই বলুন না কেন, রাতের গভীরে তারা স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে কাপুরুষের মতো পালিয়ে যাওয়ার কথা যখন চিন্তা করেন, তখনই বিএনপিকে সহ্য করতে পারেন না।

ড. মঈন খান বলেন, বিশ্বজুড়ে ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ বিভিন্ন দেশে যখন শাসন করত, তখন তারা সেসব দেশের জনগণকে দুর্বল করে রাখার জন্য কয়েকটি ভাগে ভাগ করে রাখত। সে ক্ষেত্রে তারা একটি অস্ত্র ব্যবহার করত। সে অস্ত্রের নাম ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’। অর্থাৎ এই বিভাজন। আজকে দুঃখের বিষয়, একটি স্বাধীন দেশের সরকার তাদের কার্যক্রম দিয়ে প্রমাণ করেছে, তারা ওই ঔপনিবেশিক শক্তির প্রতিনিধি। ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার জন্য সরকার আজকে সেই ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ অনুসরণ করছে।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ঈশপের এক গল্পের উদাহরণ দিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে তিন পক্ষের সমঝোতার নির্বাচন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন হলো এক পক্ষ, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হলো আরেক পক্ষ, আর আওয়ামী লীগ হলো তিন নম্বর পক্ষ। রংপুরে ভাগাভাগির নির্বাচন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদের কাছে ভালো কোনো নির্বাচন আশা করার যুক্তিসংগত কোনো কারণ নেই।


আপনার মন্তব্য