শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৫

কথাসাহিত্যিক শওকত আলী স্মরণে সেমিনার

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ছিল কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর ৮৫তম জন্মবার্ষিকী ও ২৫ জানুয়ারি ছিল লেখকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। আলোচনা ও সেমিনারের মধ্য দিয়ে বরেণ্য এই প্রয়াত কথাসাহিত্যিককে স্মরণ করেছে জাতীয় জাদুঘর।

গতকাল জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘শওকত আলীর কথা সাহিত্য : সামাজিক স্মৃতি, স্বর, রূপান্তর’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক।

জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী এবং গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিক। কে এম খালিদ বলেন, পেশায় তিনি শিক্ষক হলেও নেশায় ছিলেন একজন প্রকৃত মানবতাবাদী ও সমাজ অনুসন্ধানী লেখক।

সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের কথা তুলে এনেছেন নিজের রচনায়।

প্রবন্ধ উপস্থাপনে অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বাংলা কথাসাহিত্যের মানব অভিজ্ঞতালোকে শওকত আলী একটি নক্ষত্রবিন্দু। তার এই নাক্ষত্রিক অবস্থান যেমন ব্যাপ্ত তেমনি দীপ্তিময়।

আলোচকরা বলেন, শওকত আলী আধুনিক ও উচ্চাধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে লিখতেন। একজন সার্থক সচেতন কথাসাহিত্যিক হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙালির উত্থান-পতনকে লেখনীতে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন।

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শওকত আলী ছিলেন একজন দার্শনিক। তাঁর চিন্তা-ভাবনায় ও প্রকাশের ভাষা ছিল মৌলিক।

বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য দেশের ২১৫টি প্রত্নস্থান নির্বাচন

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য দেশের আরও ২১৫টি প্রত্নস্থানকে নির্বাচন করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। ‘আপডেটিং দ্য টেনটেটিভ লিস্ট অব বাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় এসব স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কোর অর্থায়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আর্কিওলজিক্যাল সেটেলমেন্টস অন লিটারেল ল্যান্ডস্কেপ অব সাউথওয়েস্টার্ন পার্ট অব বাংলাদেশ’ বিভাগে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৭টি প্রত্নস্থল, ‘ব্রিক বিল্ট মুঘল মসকিউ ইন বাংলাদেশ’ বিভাগে বাংলাদেশের মুঘল সময়ের ৩০টি মসজিদ, ‘কালচারাল ল্যান্ডস্কেপ অব মহাস্থান অ্যান্ড করতোয়া রিভার’ বিভাগে মহাস্থান অঞ্চলের ৮৪টি প্রত্নস্থল, ‘আর্কিওলজিক্যাল সাইটস অ্যান্ড ল্যান্ডস্কেপ অব লালমাই-ময়নামতি’ বিভাগে লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের ২১টি প্রত্নস্থল এবং ‘মুঘল অ্যান্ড কলোনিয়াল ব্রিক টেমপেলস অব বাংলাদেশ’ বিভাগে মুঘল এবং ঔপনিবেশিক সময়ের ৩৩টি মন্দির। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সভাকক্ষে সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

‘বাংলাদেশের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য সম্ভাব্য তালিকা হালনাগাদকরণ কর্মসূচির সর্বশেষ অবহিতকরণ’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন, অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আতাউর রহমান, উপ-পরিচালক মো. আমিরুজ্জামান, অনলাইনে যুক্ত হন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন, ইউনেস্কো বাংলাদেশ প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন প্রমুখ। অনলাইনে ‘সম্ভাব্য তালিকা হালনাগাদকরণ প্রক্রিয়া’ উপস্থাপনা করেন আইসিওএমওএস বাংলাদেশের সভাপতি ড. শরীফ শামস ইমন।

হালনাগাদকৃত তালিকা নিয়ে আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বাধীন সেন ও এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ।


আপনার মন্তব্য