শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মার্চ, ২০২১ ০০:১০

আওয়ামী লীগ বিএনপি দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে

----- জি এম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, দেশ ও দেশের মানুষকে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির হাত থেকে বাঁচাতে হবে। ’৯১ সালের পর থেকে দেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সংবিধান সংশোধন করে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। গতকাল জাপার বনানী কার্যালয়ে উপদেষ্টা এবং পার্টির ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। জি এম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্রের মূলে কুঠারাঘাত করেছে। দুর্নীতি, লুটপাট আর বৈষম্য সৃষ্টি করে দেশের সুশাসন ধ্বংস করেছে দুটি দল। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু বৈষম্য থেকে মুক্তি পাইনি। যারা ক্ষমতায় যাচ্ছে তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দলবাজি ও টেন্ডারবাজি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। দেশের হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। ক্ষমতায় থাকাকালীন আইনের ঊর্ধ্বে থেকে দুর্নীতি করে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, সরকারদলীয়দের বিরুদ্ধে কোনো আইন নেই, আইন শুধু বিরোধীদের জন্য প্রয়োগ হচ্ছে। আওয়ামী লীগের হাত থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতা বিএনপির হাতে গেলে শুধু কালেক্টর পরিবর্তন হবে, টাকার অঙ্ক বাড়বে কিন্তু জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য দেশের জনগণ জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়। তাই দলকে সুসংহত করতে হবে। নোয়াখালীর বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গেল রাতেও একজন খুন হয়েছে। ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তাদের দল একটাই, নেতাও একজনই। শুধু ভাগাভাগির কারণেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। দেশের মানুষ এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়। জাতীয় পার্টি দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে রাজনীতি করছে।

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোনো দলই জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় পার্টিকে লাঠিপেটা করেছে, আর আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ভেঙে দুর্বল করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে সংবিধানে ৭০ ধারা সংযোজন করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এখন এক ব্যক্তির হাতে নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা এবং নিম্ন আদালত। আর উচ্চ আদালতের নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় শতভাগই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হাতেই। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ব্যতিরেকে রাষ্ট্রপতি কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারছেন না। এক ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার কারণে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা স্বৈরতন্ত্র। অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারে এখন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সেই অধিকার হারিয়েছে দেশের মানুষ। এ সময় আরও বক্তব রাখেন পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, কো- চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, মীর আবদুস সবুর আসুদ প্রমুখ।