শিরোনাম
প্রকাশ : ২ এপ্রিল, ২০২০ ০৯:০২
আপডেট : ২ এপ্রিল, ২০২০ ১১:১৮

মহাদুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল

কোরআন হাতে মন্ত্রীদের ক'জন বলতে পারবেন কোটি টাকা দেয়ার সামর্থ্য নেই?

সোহেল সানি

কোরআন হাতে মন্ত্রীদের ক'জন বলতে পারবেন কোটি টাকা দেয়ার সামর্থ্য নেই?
সোহেল সানি

দিনদুনিয়ার চিত্র পাল্টে গেছে, করোনার থাবায়। বাংলাদেশেও মরণঘাতী করোনার ছোবলে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। 

যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য প্রবাসী বাঙালির মৃত্যুর খবরে কাঁদছে বাংলাদেশ। দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুর খবরে স্বজনদের চোখে কাটছে কান্নার সাঁতার। 

দেশবাসীর দিশা ফেরাতে নিরন্তর প্রচেষ্টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কৃপায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই চরম উদ্বেগ, উৎকন্ঠায় ভীতসন্ত্রস্ত জনসাধারণের ভরসার স্থল। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বিত্তবানদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

আশার কথা হচ্ছে এতে সাড়াও দিয়েছেন বিত্তবানরা। প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, বিষয়টি কেউ আমলে নিচ্ছেন না বলে। আপনার সুদীর্ঘ শাসনামলে আপনি কতশত লোককে মন্ত্রী, এমপি বানিয়েছেন। এসব মন্ত্রীদের অনেকেই দশ বছরও মন্ত্রীত্ব করেছেন। 

আমরা শুনতে চাই, দেখতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার ত্রাণ তহবিলে মন্ত্রিসভার বর্তমান এবং সাবেক সদস্যরা ব্যক্তিগত খাত থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

একজন সাংবাদিক ও একসময়ের রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে আমি উপলব্ধি করছি যে, আমাদের দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দাবি করতে পারবেন না যে, এই মহা দুর্যোগে তারা চাইলে তাদের ৫/১০ কোটি টাকা করে দেয়ার সামর্থ্য নেই। অনেকে হয়তো বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, সামর্থ্য নেই, কিন্তু আল্লাহর কোরআন ছুঁয়ে কি পারবেন? 

যদি না পারেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অর্থ দান করুন। যে মানুষের ভোট নিয়ে বা ভোটের নামে এমপি মন্ত্রী হয়েছেন, সেই মানুষকে বাঁচাতে এতটুকু কৃপা করুন। 

এমপি প্রার্থিতায় মনোনয়ন বাণিজ্যে কোটি কোটি হাতবদলের খবরও সাধারণ ভোটারদের অজানা নয়। বর্তমান এমপিদের মধ্যে বিত্তশালীর সংখ্যা অনেক। আমরা দেখতে চাই প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে তারাও অর্থ দান করেছেন। 

মনে পড়ছে, এর আগের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। অর্থাৎ নির্বাচনী খরচ বাবদ প্রদর্শিত অপ্রদর্শিত কোটি টাকা একেক জনের বেঁচে গিয়েছিলো।  
আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা তখন বিষয়টি মাথায় নিয়ে প্রত্যেক এমপিকে দলীয় ফান্ডে দশ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই টাকা হাতেগোনা কয়েক জন দিয়েছিলেন! এটাই ছিলো  বাস্তবতা। বিরোধী দলে থাকলে শেখ হাসিনাকে কিভাবে দলের খরচা যোগাতে হয়েছে তা অন্য কোনো লেখায় তুলে ধরবো। 
ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো'সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে তাকালে টের পাওয়া যায়, সরকারের বেশ কজন মন্ত্রী কঠোর সমালোচনার মুখে রয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথাবার্তা বলতে গিয়ে। করোনা দূরত্বের প্রাচীর খাড়া না করলে জনরোষের মুখে পড়তেন অনেক মন্ত্রী নেতাই। এসব মন্ত্রী নেতাদের সবিনয় অনুরোধ করবো, জনরোষ বলে নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে মনুষ্যত্ববোধের কথা বলেছেন, সেটাকেই জাগ্রত করে মানবসেবায় ব্রত হন। মানুষদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ তহবিলকে শক্তিশালী করতে আপনারা এগিয়ে আসুন, দেখবেন বিরোধী দলের সাবেক মন্ত্রীরাও অনেক এগিয়ে আসবেন। 
একবার ভাবুন আমরা কোথায়, দাঁড়িয়ে আছি। সর্বদর্শী জীবন, সত্য-মিথ্যার লড়াইয়ে, মিথ্যার জয়জয়কার চারদিকে। জীবনপথের স্বাভাবিকী গতি-প্রকৃত দিকভ্রান্ত। রাষ্ট্রের সর্বত্র লুকোচুরি। আপনাদের মতো মন্ত্রী আমলাদের কারণে। প্রধানমন্ত্রী দিশেহারাও। অপরিসীম দেশপ্রেম নিয়ে স্বপ্নহারাক্রান্ত্র জাতিটাকে গড়ে তোলার কি অকাতর স্পৃহা তার। অথচ, আপনারা যারা মন্ত্রী নেতা তাদের ওপর আস্থা নেই জনগণের। নিকট অতীতের নানা ঘটনায় আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি হয়েছে  প্রশ্নবিদ্ধ। করোনা পরিস্থিতি সরকারকে আর্থসামাজিক দূরবস্থার মধ্যে ফেলবেই। মন্ত্রী নেতাদের কাছে প্রশ্ন, দেশ ও জাতিগঠনের দায় কি শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যার একার? তাহলে তার মন্ত্রিসভার কি দরকার? 
আপনাদের ব্যর্থতা অথবা মদদে অর্থবৈভবহীন বর্ণচোরাও সর্বস্বচুরির সুযোগ হাতিয়ে নিয়েছে। 

রূপকথার গল্পের মতে বেরিয়ে এসেছে নেতাদের ছত্রছায়ায় ক্যাসিনো কাহিনী, আর পাপিয়া মাফিয়াদের কীর্তিকলাপ। এই দেশে একটা ইস্যুর ধামাচাপা আরেকটা ইস্যুর জন্ম। প্রায় পাঁচ দশকের মুখে স্বাধীনতা। সামনে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। সব সরকারের আমলেই দলীয়করণের থাবায় কত মানুষের কর্মহীন। অগ্রসরমান জীবনধারায়ও ছন্দপতন ঘটেছে কারণে অকারণে। সত্যের মর্মমূলে মিথ্যার অনুপ্রবিষ্টতা রুখতে ব্যর্থ হয়ে ঠকছে কত মেধাবী মুখ। অনেকেই প্রাপ্তিহারা। অবশীভাব, ভাবোন্মাদী জীনতত্ত্বের আগ্রাসী আক্রোশে উদ্ভূত মিথ্যাপবাদের গ্লানিবোধ আঁকড়ে ধরেছে অক্টোপাসের মতো এ প্রজন্মকে। অশিক্ষার প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রেখেছে গোটা জীবনসমাজকে। চারদিকে ছড়িয়ে পরেছে ইয়াবা নামক ভয়াল মাদকের থাবা। পরবর্তিনীর অশুভের ছুরিকাঘাতে জীবনপ্রবাহে বয়ে যাচ্ছে প্রলয়। 

করোনার করাল গ্রাসের আগে আমরা দেখেছি প্রতিবেশী ভারতে মুসলমানদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদের হত্যা নিপীড়ণ। প্রতিবাদে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো ও নেতৃস্থানীয় হিন্দুরা মুসলমানদের রক্ষায় এগিয়ে না এলে - বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ নিতো আল্লাহ জানেন। ভাগ্যিস সচেতন মানুষের কারণে একশ্রেণির ইসলামি উগ্রপন্থীদের বাংলাদেশে দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টা কাজে লাগেনি। মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের জীবনের সম্ভাবনীয় অধ্যায়ে প্রকৃষ্ট অধ্যায়ণ, ফাঁপা বেলুনের মতো ফেটে যাচ্ছে।
আর করোনা কত প্রাণ কেড়ে নেবে কে জানে? সবাই তাকিয়ে আছি আল্লাহর দিকে। মরণঘাতী করোনা ধেয়ে আসছে। তারপরও কি থমকে দাঁড়াবার জীবন নামক যন্ত্রটা?

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

বিডি প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য