শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ১১:৫২
প্রিন্ট করুন printer

২০ বছরের বিভক্ত ফোবানা একত্রীকরণের ভার্চুয়াল সভা

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

২০ বছরের বিভক্ত ফোবানা একত্রীকরণের ভার্চুয়াল সভা
ফোবানার ঐক্য প্রক্রিয়ার সভায় অংশগ্রহণকারীরা

উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্বদেশ-সংস্কৃতির আলোকে ঐক্যবদ্ধ রেখে নতুন প্রজন্মে বাঙালিত্ব প্রবাহিত করা এবং মূলধারায় জোরালোভাবে সম্পৃক্ত হবার সংকল্পে ১৯৮৭ সালে ‘ফোবানা’র  (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অর্গানাইজেশন্স ইন নর্থ আমেরিকা) যাত্রা শুরুর কয়েক বছরের মধ্যে অনৈক্য দেখা দেয়। নেতৃত্ব নিয়ে কাড়াকাড়ির সাথে যুক্ত হয় বাংলাদেশি রাজনীতির বিভাজনও। এ কারণে গত ২০ বছরই ফোবানার ব্যানারে পাল্টা ‘বাংলাদেশ সম্মেলন’ কখনো ‘ফোবানা কনভেনশন’ ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়েছে একই সিটিতে অথবা পৃথক সিটিতে। কয়েকবার পুলিশ ডাকাডাকির ঘটনাও ঘটে। অর্থাৎ ‘ফোবানা’ প্রতিষ্ঠার সংকল্প মাঠে মারা যেতে থাকে। প্রবাস প্রজন্মে মা-বাবার দেশের সংস্কৃতির ব্যাপারে বৈরী মনোভাব সৃষ্টি হয়। ‘ফোবানা’র নাম শুনলেই সহজ-সরল প্রবাসীরা নাক ছিটকাতে থাকেন। এই বাস্তবতাকে আন্তরিকতার সাথেই অনুধাবনের পর করোনা মহামারির মধ্যেই দুই গ্রুপের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো ২১ নভেম্বর। 

ঐক্যের ব্যাপারে উভয়পক্ষই সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ঐক্যের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকের ব্যাপারে উভয়পক্ষের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি ২৭ নভেম্বর অর্থাৎ বৈঠকের ৬দিন পর গণমাধ্যমে বিতরণ করা হয়। 

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে : দীর্ঘদিনের বিভক্ত ফোবানাকে পুনঃএকত্রীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্দেশ্যে শনিবার ২১ নভেম্বর দুই ফোবানার নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি বিশেষ যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও আন্তরিকতার সাথে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ও ফোবানাকে পুনঃএকত্রীকরণের অঙ্গীকার নিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয় এই সভা। এই গুরুত্বপূর্ণ সভা পরিচালনা করেন যৌথভাবে ফোবানার একপক্ষের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান শাহ হালিম এবং অপরপক্ষের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন খান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে : দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলে আসা বিভক্তি-বিভাজনের পর এই ঐতিহাসিক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। দুইপক্ষের নেতৃবৃন্দ এই বিভাজনের ইতি টেনে নতুন করে ঐক্য স্থাপনের উদ্দেশ্যে গভীর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে দুই ফোবানাকে ঐক্যবদ্ধ করে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয় এই সভায়। 

উল্লেখ্য, ফোবানা ১৯৯৪ সালে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছিল। পরে ১৯৯৭ সালে সকলের সহযোগিতায় ফোবানা একত্রিত হয় কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে তা আবার বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিভক্তির এই জের চলে আসছে সুদীর্ঘ সময় ধরে এবং ফোবানার প্রাক্তন ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ ফোবানার পুনঃএকত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব আজ গভীরভাবে অনুধাবন করতে পেরেছেন।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুই ফোবানার নেতৃবৃন্দ উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর সামাজিক কল্যাণ সাধনের জন্য ফোবানাকে পুনঃএকত্রীকরণের বিষয়ে একমত ও অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন। একত্রীকরণ প্রক্রিয়ার কাজ যথাসম্ভব দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে দুইপক্ষই একমত পোষণ করেছেন। দুই পক্ষের নেতৃবৃন্দ ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে এই ঘোষণা প্রদান করেন যে, পারস্পরিক একটি সুন্দর ঐক্যের সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য দুইপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধাচারণ করা থেকে বিরত থাকবেন এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন না।

ঐক্য প্রক্রিয়ার এই ঐতিহাসিক সভায় অংশগ্রহণ করেন ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ইমাম সিকদার, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, সাবেক চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ইউসুফ জাই, এজাজ আখতার তৌফিক, আবু জোবায়ের দারা, আবু লিয়াকত হোসেন, সাবেক মেম্বার সেক্রেটারি ডা. মাসুদুর রহমান খন্দকার, সাবেক কনভেনর গিয়াস আহমেদ, সদস্য ড. ইবরুল চৌধুরী।
 
অপরপক্ষের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ফোবানা এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান শাহ হালিম, সাবেক চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম বাবলা, মাহাবুব রেজা রজিম, ডিউকখান, মোহাম্মদ আলমগীর, জসিমউদ্দিন, রেহান রেজা, ভাইস চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী ও এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ড. আহসান চৌধুরী হিরো।
  
এই ভার্চুয়াল সভা সঞ্চালনায় সহযোগিতা করেন একপক্ষের যুগ্ম নির্বাহী সচিব ড. রফিক খান এবং অপরপক্ষের সাবেক মেম্বার সেক্রেটারি ফিরোজ আহমেদ।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

  


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর