শিরোনাম
১০ আগস্ট, ২০২১ ১৩:৪৯

'সমাজবিজ্ঞানী ড. গাজী সালেহ উদ্দিন ছিলেন একজন মহান সমাজ সংস্কারক'

কানাডা প্রতিনিধি

'সমাজবিজ্ঞানী ড. গাজী সালেহ উদ্দিন ছিলেন একজন মহান সমাজ সংস্কারক'

অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন

বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন স্মরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতত্ত্ব একুশ ব্যাচের আয়োজনে কানাডা সময় গতকাল সোমবার সকাল দশটায় এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৬ আগষ্ট ঢাকার সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কৃতি অধ্যাপকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দেশের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

বিশিষ্ট কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসানের স্বাগত বক্তব্য ও উদীচী কানাডা সংসদের সাধারণ সম্পাদক মিনারা বেগমের সঞ্চালনায় আয়োজিত স্মরণ সভায় অন্যায়ের সাথে সদা আপোষহীন ও বঙ্গবন্ধুর আজন্ম অনুসারী এই দেশপ্রেমিকের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। 

মরহুম গাজী সালেহ উদ্দিনের সন্তান সালেহীন তানভীর গাজী, সানজিদা শারমিন গাজী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতত্ত্ব বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক লুৎফুন্নাহার সুরমা, ড. আবু সিনা সৈয়দ তারেক, আজিম গ্রুফ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক আহসানুল কাদের জাহেদ, কবি ও লেখক মেরিনা সুলতানা, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হালিম আকবর, রিফাত জাহান, টরেন্টো প্রবাসী কামরুল আলম চৌধুরী, কাজী তোফায়েল আহমেদ জুয়েল, মইনুল ইসলাম খান, অধ্যাপক হাফিজুর রশিদ, শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল সগীর, এডভোকেট পাপড়ী দাশগুপ্ত, ইন্দ্রাণী সেন মুন্না, রফিকুল ইসলাম রোকন সহ অনেকেই আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রয়াত শিক্ষাবিদের আলোকিত জীবনের নানা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও দেশপ্রেমের ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তসমূহ তুলে ধরেন। 

সানজিদা শারমিন গাজী তার পিতার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হয়ে বলেন, পরিবারের প্রয়োজনে নয় চট্টগ্রাম ও দেশের প্রয়োজনে ড. গাজী সালেহ উদ্দিনের আরও কয়েকটি বছর বেঁচে থাকা বড় বেশী প্রয়োজন ছিল।

এ প্রসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর বদ্যভূমির দখল হওয়া জমি পুনোরুদ্ধার, নৈতিক স্কুল প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ড. গাজীর ইস্পাত-দৃঢ় অবস্থানের কারণে তাদের পরিবার কিভাবে চরম হুমকির মুখে পতিত হয়েছিল সেসব বিষয় তুলে ধরেন।

সরকারের উপ-সচিব সালেহীন তানভীর গাজী বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে সুদৃঢ় থেকে কিভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়, সেটিই পিতার কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা। তিনি ড. গাজীর অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করতে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। 

অধ্যাপক লুৎফুন্নাহার বলেন, শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন ছিলেন নিবেদিত প্রাণ, তার দেশপ্রেমও ছিল মহীরুহসম। অবসর জীবনেও বিভাগের উন্নয়ন ও ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে কাজ করেছেন। জীবনের প্রতিটি মুহুর্তকে তিনি সমাজের কল্যাণেই ব্যয় করেছেন। 

ড. তারেক তার প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ড. গাজী সালেহ উদ্দিন ছিলেন শিক্ষক সমাজের আদর্শ। একজন সম্মুখ সমরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলেই হয়তো তিনি শুধু শিক্ষকই ছিলেন না, একটি পশ্চাৎপদ সমাজ ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি ছিলেন একজন মহান দার্শনিক। 

 

বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর