শিরোনাম
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৭:১৭

মিশিগানে ভাষা দিবসের ব্যতিক্রমী আয়োজন

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

মিশিগানে ভাষা দিবসের ব্যতিক্রমী আয়োজন

মিশিগানের প্রবাসীদের আয়োজনে হয়ে গেল ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান ভাষার বসন্ত। প্রবাস জীবনেও দেশীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া এনে দিতে মিশিগানে নর্থভিল কমিউনিটি সেন্টারে ভাষা দিবসের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় বাংলাদেশি পিঠা উৎসব।

স্থানীয় সাংবাদিক সাইফুল আজম সিদ্দিকী জানান, শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পাঁচটা থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণে পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও পিঠা উৎসব। স্থানীয় শিল্পীদের উপস্থাপনায় ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও এই দিবসের অর্জন।

তুষারে ঢাকা শ্বেত-শুভ্রতা আর কনকনে শীতের পরবাসী জীবনে নতুন ধানের চালের গুঁড়ায় তৈরি পিঠার অতুলনীয় স্বাদ নিতে ভোলেননি মিশিগানের বাংলাদেশিরা। নোভাই-নর্থভিল, কেন্টন, অ্যানআরবার, ট্রয়উইক্সম, ফারমিংটন হিলস, সাগিনা ও শহরের আশপাশের বাংলাদেশিরা মিলিত হন এ আয়োজনে। মঞ্চসজ্জা করা হয়েছিল প্রমাণ সাইজের শহীদ মিনার আর ফুল দিয়ে। লোক সমাগম দেখে মনে হয় পরবাসে এ যেন ছোট্ট একটি বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও বিশ্বব্যাপী এর স্বীকৃতির উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করে স্কুলে পড়ুয়া জারা, আতিফ, আয়ান ও জুনাইরা। এরপর ভাষা শহীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে কবিতা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন সাইফ, আহাদ, শাম্মা, তমা, নিশিতা ও অভিষেক। এছাড়া নৃত্য পরিবেশন করে ছোট্টমণি মনজুরি, আলিয়া, সানিয়া, থিয়া, ইরিনা, জোহান, সিহান, ইউসরা,সাইফান, জাভিয়ান ও শারাফ। বড়দের মাঝে নৃত্য পরিবেশন করেন জারা, জুনাইরা, সানজিদা, লাবন্য, মৃত্তিকা ও তারদল। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফজলে আহাদ, তৃনা বড়ুয়া, আরিশা, আদিবা ও অভিষেক বালা।

উৎসবে ভাপা, পুলি, চিতই, পাটিসাপটা, চন্দ্রবাহার, চুঙ্গাপিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, রসফুল পিঠা, জামদানি পিঠা, হাঁড়িপিঠা, ঝালপোয়া, ঝুরিপিঠা, ঝিনুক পিঠা, সূর্যমুখী পিঠা, নকশি পিঠা, নারকেল পিঠা, নারকেলের ভাজা-পুলি, দুধ-চিতই সহ বিচিত্র নামের ও সৌন্দর্যের সবপিঠার সৌন্দর্যে ভরপুর ছিল। ছিল সিলেট,ময়মনসিংহ, বরিশাল, বগুড়া, নোয়াখালী, রাজশাহী, নরসিংদী, ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নানা ধরনের পিঠা ও পিঠার সেই সুবাশ ছড়িয়ে পড়ে পুরো হলরুমে। অনুষ্ঠানে ছিল রিতা’স কিচেন ও জেরিন’স কিচেন। রাতের খাবারে ছিলো সুরাইয়া’স কুকবুক।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য ছিল ৩৬০ ফটো বুথ। অনুষ্ঠানের স্পন্সর ছিলেন মৃধা ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ পিস এন্ড অয়েলথ ফাউন্ডেশন, এমিইসলাম, এএ ফটোগ্রাফী। এছাড়াও ছিল ছেলে ও মেয়েদের দলীয় সঙ্গীত। ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় নাচের সাথে সঙ্গীত পরিবেশন করেন- সম্পা, শান্তা, সাজিয়া, লাবন্য, মৌসুমি, নিশিতা, সানজিদা, ফারজানা ও রনজিতা। 

কারার ওই লৌহ কপাট ও তীরহারা গান সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন ফজলে আহাদ, মোহাম্মদ মামুন, নাজমুল আনোয়ার, নির্মল দাস, আব্দুল মতিন, রুবাব আহমেদ আদিব, প্রসান্ত দে ও অভিষেক বালা। অনুষ্ঠানের পুরোটা সময় ছিল বাংলা গান ও নাচে প্রাণবন্ত।

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর