Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১২

কাবাডির একি হাল!

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কাবাডির একি হাল!
বিশ্বকাপ কাবাডিতে ভারতের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ —ফাইল ফটো

জাতীয় খেলা কাবাডি। আশা ছিল এই খেলার জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দেশের জন্য সুনাম কুড়িয়ে আনবে। বাস্তবে তা দেখাই মিলছে না। দিন দিন অধঃপতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কাবাডি। এশিয়ান গেমসতো দূরের কথা সাউথ এশিয়ান গেমসে পদক জেতাটাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বরং পুরুষদের চেয়ে মহিলারা এগিয়ে আছে বলা যায়। কাবাডির জন্য আলাদা স্টেডিয়ামও নির্মাণ হয়েছে। এরপরও জাতীয় প্রতিযোগিতা ছাড়া কোনো আসরই নিয়মিত করতে পারছে না। মানোন্নয়নে কর্মকর্তারা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার কোনো কিছুই বাস্তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এবার ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ কাবাডিতে বাংলাদেশ গ্রুপপর্ব খেলেই বিদায় নিয়েছে। সেমিফাইনালে উঠতে না পারায় এবার আর পদক জেতা সম্ভব হচ্ছে না। শূন্য হাতে ফিরে আসছে কাবাডি দল। অথচ আগের তিন বিশ্বকাপে তামা জিতে ছিল বাংলাদেশ। খারাপ কিছু যে ঘটবে তা কোচ আগেই আভাস দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ অথচ এ নিয়ে ফেডারেশন প্রস্তুতির ব্যবস্থা সেভাবে করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে পদক জেতা কঠিন কোচ তা জানিয়েছিলেন। তারপরও বিশ্বকাপে শূন্য হাতে ফেরাটা বিস্ময়ই মনে করছেন ক্রীড়ামোদীরা।

পদক না জিতলেও ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্রীড়ায় তিন দেশই পরিচিত। তাই তাদের বিরুদ্ধে জয় নিয়ে কেউ কেউ আলোচনা করছেন। বাস্তবে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা আর্জেন্টিনা কাবাডিতে মোটেই শক্তিশালী দল নয়। এই খেলা সবেমাত্র শিখতে শুরু করেছে তারা। কাবাডির শিশু বলা যায়, তাই তাদের বিপক্ষে জয় নিয়ে তৃপ্তি পাওয়ার কিছু নেই। ভারতের কাছে শোচনীয় হার নিয়ে আক্ষেপের কিছু নেই। বিশ্ব কাবাডিতে তারা শক্তিশালী দেশ। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে জেতা ম্যাচ হারে কিভাবে?

এটাও ঠিক ভারতের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়া প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছে। এতে তো লজ্জা পাওয়ারই উচিত বাংলাদেশের। কোরিয়া কত পড়ে এসে এগিয়ে গেছে। কাবাডির এই বিপর্যয় নতুন করে ভাববার সময় এসেছে। বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কাবাডি ফেডারেশন ঘিরে অভিযোগের শেষ নেই। সুষ্ঠু দিক নির্দেশনা না থাকায় এই অচল অবস্থা নাকি নেমে এসেছে।  জাতীয় খেলা খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলবে কত দিন। ক্রীড়া প্রশাসনের উচিত হবে কাবাডির দিকে নজর দেওয়া।


আপনার মন্তব্য