Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ জুলাই, ২০১৮ ২৩:২৩

ইংলিশ-ফ্রেঞ্চ লিগের সেমিফাইনাল!

ইংলিশ-ফ্রেঞ্চ লিগের সেমিফাইনাল!
ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা তাদের ওপর নির্ভর করছে। সেমিতে খেলার আগে নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত বেলজিয়ামের লুকাকু ও ফ্রান্সের এমবাপ্পে —এএফপি

বিশ্বকাপের লড়াইয়েও কখনো কখনো ক্লাব ফুটবলের কথা এসে যায়। ক্লাব ফুটবলের শত্রু-মিত্রের পরিচয়টা বদলে যায় জাতীয় দলের জার্সিতে। রাশিয়া বিশ্বকাপও ক্লাব ফুটবলের আবহ থেকে মুক্ত নয়। ফ্রান্স-বেলজিয়াম ম্যাচ ঘিরে এমন আলোচনাই সামনে চলে এসেছে। আজ সেন্ট পিটার্সবার্গে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের লড়াই হবে ফ্রান্স-বেলজিয়ামের। দুই দলের জার্সির আড়ালে যেন লড়াই হবে ইংলিশ ও ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের!

ফ্রান্স দলের ৯ জন ফুটবলার আছেন, যারা ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের বিভিন্ন ক্লাবের সেরা তারকা হিসেবে পরিচিত। কিলিয়ান এমবাপ্পে খেলেন পিএসজিতে। এখানে তার দাপট অনেক। আদিল রামি, স্টিভ মানডানারাও ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের ফুটবলার। থাউবিন, নাবিল ফেকিরদেরও দেশম বাছাই করেছেন ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান থেকে। তবে ফ্রান্স দল পূর্ণ করতে হলে ইংলিশ লিগ থেকেও কয়েকজনকে নিতে হয়। ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যামের লরিসকে ছাড়া ফ্রান্স দল পূর্ণ হতে পারে না।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পল পগবা এবং চেলসির অলিভিয়ের গিরদকে ছাড়াও তো পূর্ণ হয় না ফ্রান্স দল। চেলসির এনগুলো কান্তেকেও প্রয়োজন ফ্রান্সের। তাছাড়া স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের আঁতোয়ান গ্রিজম্যান, বার্সেলোনার স্যামুয়ের উমতিতি ও ডেম্বলেকেও প্রয়োজন হয় ফ্রান্সের। তাদের ছাড়া দল তো কল্পনাই করা যায় না!

ফ্রান্স দলে ইংলিশ ও স্প্যানিশ লিগের সাহায্য প্রয়োজন হলেও বেলজিয়াম দলটা কিন্তু পুরোপুরিই বলতে গেলে ইংলিশ লিগ দিয়েই গড়া। ইউরোপিয়ান ফুটবলে ‘রেড ডেভিল’ হিসেবে পরিচিত বেলজিয়াম দলের ১১ জন ফুটবলার আছেন ইংলিশ লিগের। এর মধ্যে টটেনহ্যামের ৩ জন, চেলসি, ম্যানইউ ও ম্যানসিটির ২ জন করে এবং লিভারপুল ও ওয়েস্ট ব্রমউইচের একজন করে। ইংলিশ লিগের এই ১১ জনের মধ্যে বেশির ভাগই বেলজিয়ামের প্রথম একাদশের নিয়মিত ফুটবলার। কর্টয়েস ও ইডেন হ্যাজার্ড খেলেন চেলসিতে, কেভিন ডি ব্রুইন ও ভিনসেন্ট কম্পানি খেলেন ম্যানসিটিতে, ম্যানইউতে খেলেন ফেল্লিনি ও লুকাকো। টটেনহ্যামের টবি অ্যাল্ডারউইয়ারেল্ড এবং ওয়েস্ট ব্রমউইচের নাসের চ্যাডলিও তো বেলজিয়ামের একাদশে স্থান পান। অবশ্য বেলজিয়ামের একাদশ পূরণ করতেও ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের ক্লাব পিএসজি থেকে নিতে হয় থমাস মুয়েনিরকে। একটু এদিক-সেদিক হলেও বেলজিয়াম দলটা বলতে গেলে ইংলিশ লিগ দিয়েই গড়া। অন্যদিকে ফ্রান্স দলেও আছে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের আধিপত্য।

আজ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লিগের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণেরও একটা ব্যাপার রয়ে গেল। দিদিয়ের দেশম ফ্রান্স ফুটবলীয় আদর্শে দলকে মাঠে পাঠাবেন। অন্যদিকে বেলজিয়াম কোচ মার্টিনেজ দীর্ঘদিন এভারটনের কোচ ছিলেন। তার ফুটবলাররাও বেশির ভাগ ইংলিশ লিগে খেলে। এমনকি সহকারী থিয়েরি অঁরিও তো ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের ছেলে। সব মিলিয়ে ফ্রান্স-বেলজিয়াম লড়াইয়ের মধ্যেও কেমন যেন একটা ফ্রাঙ্কো-ইংলিশ যুদ্ধের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। দুই দেশের ফুটবলের দর্শন ভিন্ন রকমের। ফ্রান্স ফুটবল খেলে গুছিয়ে। কাউন্টার আক্রমণে যায় তারা। তবে অতটা নয়। মাঝে-মধ্যে। আর বেলজিয়ামের খেলার ধরনটাই হচ্ছে কাউন্টার আক্রমণ। প্রতিপক্ষকে নিজেদের মাঠে নিয়ে আসে। তারপর হঠাৎ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে শিকারের উদ্দেশ্যে। এই কৌশলেই তারা বিদায় করেছে বিশ্বকাপের শীর্ষ ফেবারিট ব্রাজিলকে। দেখা যাক, ফ্রান্সকেও বিদায় করে দেয় কিনা! বেলজিয়াম ফাইনালে উঠলে বিশ্বকাপে নতুন চ্যাম্পিয়নের সম্ভাবনা যে অনেক বেড়ে যাবে!


আপনার মন্তব্য