Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৪১

শুধুই হতাশার প্রতিচ্ছবি

আসিফ ইকবাল

শুধুই হতাশার প্রতিচ্ছবি
উমতিতের গোল। উচ্ছ্বসিত ফ্রান্স। হতাশায় ভেঙে পড়া বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে প্রথম সেমিফাইনালের চিত্রপট ছিল এমনই —এএফপি

ফরাসি সুগন্ধিতে মৌ মৌ করছে রাশিয়া। নতুন করে ইতিহাস লেখার স্বপ্নে বিভোর প্যারিসসহ গোটা ফ্রান্স। জিনেদিন জিদান, দিদিয়ের দেশমের দেখানো পথে রাশিয়ায় ফরাসি ঝাণ্ডা উড়াতে প্রস্তুত আঁতোয়ান গ্রিজম্যান, পল পগবা, কিলিয়েন এমবাপ্পেরা। ফরাসি বিপ্লবে যখন বিশ্বকাপ কাঁপছে, তখন হতাশার কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে ইডেন হ্যাজার্ডের ‘লাল দুর্গ’ বেলজিয়াম। রাশিয়া বিশ্বকাপে যে দুটি দলকে ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ বা ‘সোনালি প্রজন্ম’ বলা হয়েছে, তাদের একটি হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনদের বেলজিয়াম। সোনালি প্রজন্মের আরেক দল নেইমার, মার্সেলো, জেসুস, ফিরমিনহো, ডি কস্তাদের ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আসর থেকে ছিটকে পড়ে বেলজিয়ামের কাছে হেরে। বেলজিয়ামকে বিদায় করেছে ফ্রান্স। বেলজিয়ামের বিদায়ে আবারও প্রমাণিত হলো সোনালি প্রজন্মের দলগুলোর জন্য বিশ্বকাপ শুধুই হতাশার।

১৯৫৪ সালে ফেরেঙ্ক পুসকাস, হিদেকুটির হাঙ্গেরিকে বলা হচ্ছিল ‘ম্যাজিক্যাল ম্যাগিয়র্স’। সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলছিল পুসকাসের হাঙ্গেরি। ফাইনালের আগে পর্যন্ত চার বছরে অপরাজিত ছিল ৩৯ ম্যাচে। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে প্রথম চার ম্যাচে গোল করে ২৫টি। ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে লড়াইয়েরও ফেবারিট ছিলেন পুসকাসরা। ফেবারিট থাকাই ছিল স্বাভাবিক। লিগ পর্বে যে ৮-৩ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল জার্মানিকে। ফাইনালে তাই পুসকাসের ‘সোনালি প্রজন্মের’ হাঙ্গেরি ছিল ফেবারিট। কিন্তু ‘ব্যাটল অব বার্ন’ বলে খ্যাত ফাইনালে হাঙ্গেরি অবিশ্বাস্যভাবে হেরে যায় ৩-২ গোলে। সেই শুরু সোনালি প্রজন্মের হতাশার। এরপর ‘টোটাল ফুটবল’-এর জনক নেদারল্যান্ডস। ১৯৭৪ সালে ইয়োহান ক্রুইফ, নিসকেন্সদের নেদারল্যান্ডস অলআউট ফুটবল খেলে ঝড় তুলেছিল বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপ জয়ের টপ ফেবারিট ছিল টিউলিপের দেশটি। কিন্তু ফাইনালে ফ্রেঞ্জ বেকেনবাওয়ার, গার্ড মুলারের জার্মানির কাছে হেরে যায় নেদারল্যান্ডস। হাঙ্গেরির পর ফের হতাশার চাদরে ঢাকা পড়ে সোনালি প্রজন্মের নেদারল্যান্ডসের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।

পুসকাসের হাঙ্গেরি, ক্রুইফের নেদারল্যান্ডসের পর রুড গুলিত, ফন ভ্যানবাস্টেন, রাইকার্ডের নেদারল্যান্ডসও ছিল সোনালি প্রজন্ম। ১৯৮৮ সালে ছবির মতো ফুটবল খেলে দলটি জয় করেছিল ইউরো। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে দলটি ছিল অন্যতম ফেবারিট। কিন্তু নকআউট পর্বের ব্যারিয়ার টপকাতে পারেনি গুলিতের ডাচ বাহিনী। লুইস ফিগো, পাওলিটা, নুনো গোমেজদের পর্তুগালকে বলা হচ্ছিল ‘সোনালি প্রজন্ম’। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট বলা হচ্ছিল ফিগোর পর্তুগালকে। কিন্তু ফিগোরা ফাইনালের ঠিকানা খুঁজে পাননি। হেরে যান সেমিফাইনালে। বিশ্বকাপের শিরোপা যে সোনালি প্রজন্মের দলগুলোর কাছে দুর্বোধ্য, সেটা ফের প্রমাণিত হলো জার্মানি বিশ্বকাপে।

হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিল ও পর্তুগালের পর আরও একবার হতাশায় ভেঙে পড়তে হলো আরেক সোনালি প্রজন্মের ধারক বেলজিয়ামকে। টানা পাঁচ ম্যাচে দুরন্ত গতির, চোখ ধাঁধানো ও স্বপ্নের ফুটবল খেলে জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠার আগে হ্যাজার্ড, লুকাকুরা গোল করেন ১৪টি। প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য ‘যম’ হয়ে উঠা বেলজিয়ামকে বলা হচ্ছিল চলতি বিশ্বকাপের সোনালি প্রজন্ম। বিশ্বকাপের শুরুতে না হলেও সময়ের চোরাস্রোতে ফেবারিট হয়ে উঠেন হ্যাজার্ডরা। গ্রিজম্যানের ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগেও ফেবারিট ছিল দলটি। দুরন্ত গতির ফুটবল খেললেও ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়ে। অথচ বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রেখেছিল লাল দুর্গের সৈন্যরা ৬৪ শতাংশ। ফরাসি বিপ্লবের কাছে হেরে আত্মসমর্পণ করেছে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপ থেকে বেলজিয়ামের বিদায়ে পুরনো মিথোলোজিইটাই আবার প্রতিষ্ঠিত হলো, সোনালি প্রজন্মের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল শুধুই হতাশার।


আপনার মন্তব্য