শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২১

আরও ভালো ইনিংস খেলতে চাই

আসিফ ইকবাল, দুবাই থেকে

আরও ভালো ইনিংস খেলতে চাই

শহরের পেট চিড়ে তরতর করে বয়ে চলেছে মাখদুম নদী। জীর্ণশীর্ণ না হলেও একেবারে সুস্বাস্থ্যের অধিকারীও নয়। মাখদুম দুবাইবাসীর প্রাণের নদী। পর্যটন শহরটিকে দুভাগে ভাগ করে তরতর করে বয়ে মিশেছে গালফ সাগরে। নদীটির দুই ধারে পুরনো দুবাই এবং ঝলমলে নতুন দুবাই। নতুন দুবাই যেন আলোর চকমকিতে সদা হাস্যোজ্জ্বল। নতুন দুবাইয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল বুর্জ আল খালিফা। ১৬৩তলা অনিন্দ্য সুন্দর হোটেলটিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নদীর পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ফেস্টিভ্যাল সিটির ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল। ৭ তারা হোটেলেই বাস গেড়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ভারত ছাড়া এশিয়া কাপ খেলতে আসা বাকি সবগুলো দলেরই আবাস এখানে। এখান থেকেই টাইগাররা খেলতে যান দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়াম, যাবেন আবুধাবী স্টেডিয়ামেও। আগের দিন শ্রীলঙ্কাকে গুড়িয়ে দিয়ে বেশ উত্ফুল্ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। পরিশ্রান্ত মুশফিক, মাশরাফিরা যেন নিজেদের ফিরে পান, সেজন্য গতকাল ছিল বিশ্রাম। ক্রিকেটাররাও দিনটিকে কাজে লাগান এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করে। বেড়াতে যাওয়ার আগে দ্বীপরাষ্ট্রের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলা মুশফিকুর রহিম কথা বলেন। কিন্তু কোথাও ক্লান্তি ছিল না ৪৩ ডিগ্রি গরমে খেলার। বরং উত্ফুল্ল মুশফিক নিজেকে আরও শানিত করে দলের প্রয়োজনে উজার করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

টেকনিক্যালি সবচেয়ে সাউন্ড ও সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার মুশফিক। অনুশীলনে সবার আগে আসেন মাঠে। সবাই যখন নিজেদের গুছিয়ে নিতে থাকেন অনুশীলনের জন্য, তখন সাবেক অধিনায়ক নিজেকে আরও ধারালো করে নেন ঘাম ঝরিয়ে। বাড়তি পরিশ্রমের ফলও পাচ্ছেন হাতেনাতে। দুবাইয়ের গা ঝলসানো রোদে সবাই যখন বিপর্যস্ত, তখন মুশফিক উইকেটের একমাত্র আগলে রেখে ২৫ ওভার ব্যাটিং করে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ৬ নম্বর সেঞ্চুরি। ১৪৪ রানের ইনিংস খেলার পরও নির্বিকার মুশফিক। অসাধারণ ব্যাটিং করে ম্যাচ জেতানোর পরও তৃপ্ত নন পুরোপুরি। আরও জয় উপহার দিতে চান দেশকে, ‘কতটা ম্যাচ জিতিয়েছি, সেই হিসেব কখনো হিসেব করতে চাই না। আমার টার্গেট সামনে দলকে যেন আরও বেশি ম্যাচ জেতাতে পারি। কোনো হিসাবই যেন না থাকে। সব সময় চেষ্টা থাকবে ভবিষ্যতে দলের জয়ে বেশির ভাগ অবদান যেন রাখতে পারি।’

ভাঙা হাতে ব্যাট করতে নেমে ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। তামিমের বীরত্বগাথা ব্যাটিংয়ে অনেকটাই আড়ালে পড়ে গেছেন মুশফিক এবং মোহাম্মদ মিথুন। অথচ তামিমের ইনজুরি, লিটন দাস ও সাকিবের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন মুশি। সঙ্গী করেন মিথুনকে। দুজনে যোগ করেন ১৩১ রান। মুশফিক ১৪৪ রান করেন এবং মিথুন করেন ৬৩ রান। ম্যাচসেরা মুশফিক নিজের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলের সাফল্যের পেছনে অবদান রাখতে স্মরণ করেন মিথুনকেও, ‘তামিমের নামাটা দলের মোমেন্টাম ধরেছে। তার আগে আমি মিথুনের কথা বলবো। তার ইনিংসটা অসাধারণ। ২ উইকেট পরে যাওয়ার পর (তামিমও তখন বাইরে) মানে তিন উইকেট পরে যাওয়ার পর স্কোর বোর্ডে ছিল মাত্র ২ রান। মিথুন যেভাবে ইতিবাচক ব্যাটিং করেছেন, তাতে আমার ওপর চাপ কমিয়ে দিয়েছে অনেক। আমি রান রোটেট করে খেলছিলাম। আমাকে কোনো রিস্কি শট  খেলতে হয়নি। দলের রান রেটকে সচল রেখেছে। ক্রেডিট পেতেই পারেন মিথুন। আমাদের বড় একটা জুটির প্রয়োজন ছিল। আমাদের পরিকল্পনাও ছিল তেমন। সেটা করতে পেরেছি।’ ২০০৬ থেকে টাইগারদের অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিক। দলের প্রয়োজনে সব সময় রান করেন এবং ম্যাচ জেতান। পরশু ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন। অনেকেই বলছেন তার ক্যারিয়ার সেরা। কিন্তু সাবেক অধিনায়ক আরও ভালো ইনিংস খেলতে চান, অনেকেই এটাকে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস বলে। অনেকেই বলছে। তবে ভবিষ্যতে এর চেয়ে ভালো ইনিংস হতে পারে। অবশ্য এখন পর্যন্ত এটাই আমার ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং।’


আপনার মন্তব্য