শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০২১ ২৩:৩৪

টাইগারদের আগ্রাসী বোলিং

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টাইগারদের আগ্রাসী বোলিং
Google News

প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরেছিল। হেরেছে দ্বিতীয়টিতেও। প্রথমটি হেরে আগে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। গতকাল দ্বিতীয়টিতে হেরে বোলিং করে। প্রথম ম্যাচে বোলিংয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার সাকিব আল হাসানের। গতকাল আলো ছড়িয়েছেন তরুণ বাঁ হাতি স্পিনার শরীফুল ইসলাম। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন যুব বিশ্বকাপজয়ী তরুণ ফাস্ট বোলার। তার গতি, বাউন্স, সুইং ও স্লোয়ারে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৪০ রান। প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া সাকিব গতকাল নেন ২ উইকেট। প্রথম ওয়ানডেতে ১ উইকেট নেওয়া শরীফুল নেন ৪ উইকেট।

প্রথম ওয়ানডের ‘সেঞ্চুরি ম্যান’ লিটন দাস হাঁটুর হালকা ইনজুরিতে উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দাঁড়াননি। জিম্বাবুয়ের গোটা ইনিংসে কিপিং করেন নুরুল হাসান সোহান। ওই ম্যাচে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের পারফরম্যান্সও আহামরি ছিল না। তখন মনে হয়েছিল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সোহানকে দেখা যেতে পারে একাদশে। কিন্তু অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও কোচ রাসেল ডমিঙ্গো একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেননি। তাই আগের ম্যাচের একাদশই খেলেছে গতকাল। তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ছাড়াও দুই স্পিনার সাকিব ও মিরাজ ছিলেন একাদশে।

সিরিজের কোনো ম্যাচেই খেলার সুযোগ ছিল না শরীফুলের। প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম ওভারে ইনজুরিতে পড়েন ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে শরীফুল চেষ্টা করেন প্রথম ম্যাচে পারফরম্যান্স করতে। ৬ ওভারের স্পেলে ২৮ রানের খরচে একটি উইকেটও নিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল ছিলেন দুরন্ত। ৫ স্পেলে ১০ ওভার বোলিং করেন। শেষ স্পেলে তিনি নেন ২ উইকেট। প্রথম বোলিংয়ে আসেন অষ্টম ওভারে। ৩ রান দেন। ১১ নম্বর ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে ৩ ওভার বোলিং করেন। দুই স্পেলে ৪ ওভারে রান দেন ২৫। ২৩ নম্বর ওভারে আসেন তৃতীয় স্পেলে। ২ ওভার বোলিং করে ১১ রানের খরচে নেন ১ উইকেট। ৩৯ ওভারে আসেন চতুর্থ স্পেল করতে। এক ওভারে ৪ রানের খরচে নেন আরও এক উইকেট। ৪৫ নম্বর ওভারে এসে করেন পঞ্চম ও শেষ স্পেল। শেষ স্পেলে ৩ ওভারে ৬ রানের খরচে নেন ২ উইকেট। সব মিলিয়ে শরীফুল ১০ ওভারে ৪৬ রানের খরচে নেন ৪ উইকেট। যা তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। আগের ৩ ম্যাচে উইকেট ছিল ৩টি।

উইকেট একটি পেলেও দুরন্ত বোলিং করেছেন তাসকিন। হারারের উইকেটের সকালের সুবিধাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের নাড়িয়ে দেন ডান হাত ফাস্ট বোলার। ছন্দে থাকা তাসকিন ম্যাচ ও নিজের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন প্রতিপক্ষ শিবিরে। ওভারের ষষ্ঠ বলে তার অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলকে ব্যাকফুটে খেলতে যেয়ে তিনাশেকে তালুবন্দী করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব’র হাতে। ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করা তাসকিনের দুর্ভাগ্য। মিথুন ও সাইফুদ্দিন যদি দুই ক্যাচ মিস না করতেন, তাহলে নামের লেখা থাকতো ৩ উইকেট। প্রথম ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন সাকিবও। নেন ২ উইকেট। এখন তার উইকেট সংখ্যা ২৭৬টি। আরেক স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজও নিজের প্রথম ওভারে উইকেট নেন। ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে বোল্ড করেন মারুমাকে। বল হাতে উইকেট নিয়েছেন শরীফুল, সাকিব ছাড়াও তাসকিন, সাইফুদ্দিন ও মিরাজ।

         

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে : ২৪০/৯ (৫০ ওভার) (মারুমানি ১৩, চাকাভা ২৬, টেলর ৪৬, মায়ার্স ৩৪, মাধহেভার ৫৬, রাজা ৩০। তাসকিন ১০-০-৩৮-১, সাইফ ১০-০-৫৪-১, মিরাজ ৭.২-০-৩৪-১, শরীফুল ১০-০-৪৬-৪, সাকিব ১০-০-৪২-২)

 

বাংলাদেশ : ২৪২/৭ (৪৯.১ ওভার) (তামিম ২০, লিটন ২১, সাকিব ৯৬*, মাহমুদুল্লাহ ২৬, আফিফ ১৫, সাইফুদ্দিন ২৮*; লুক জঙ্গি ৮-০-৪৬-২, মুজারাবানি ৯.১-১-৩১-১, মাধিভিরে ১০-০-৩৯-১, রিচার্ড ৯-১-৩৩-১, রাজা ৬-০-৩৩-১)

ফল : বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : সাকিব আল হাসান।