শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৮:২৩

পেস অ্যাটাক নিয়ে ভুগছে বাংলাদেশ

আসিফ ইকবাল, কলকাতা থেকে

পেস অ্যাটাক নিয়ে ভুগছে বাংলাদেশ
ফাইল ছবি

ইডেন গার্ডেন ভারতের সবচেয়ে পুরনো ক্রিকেট স্টেডিয়াম। আভিজাত্যে পিছিয়ে নেই লর্ডস, মেলবোর্ন থেকে। ১৮৬৪ সালে স্থাপিত স্টেডিয়ামটিতে খেলতে মুখিয়ে থাকেন বিশ্বের তাবৎ ক্রিকেটার। আকাশবাণী অফিস ও ময়দানের পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা স্টেডিয়ামটি আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। 

মূল ফটকে মহেন্দ্র সিং ধোনি, শচিন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষণ, পংকজ রায়দের বিশাল আকৃতির ছবিগুলো আরও বেশি আবেদন ছড়িয়েছে স্টেডিয়ামের। ঐতিহাসিক মাঠটি আগামীকাল শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হচ্ছে নতুন করে। এবার সোনালি মোড়ক লেখা হচ্ছে ইডেনের নাম গোলাপি বলে ও দিবারাত্রির টেস্ট আয়োজন করে। 

বাংলাদেশ ও ভারতও টেস্টটি খেলে স্থায়ী হচ্ছে ইতিহাসের পাতায়। গতকাল বুধবার (২০ নভেম্বর) টাইগারদের অনুশীলন শেষে স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, গোলাপি বলে পেসারদের সঙ্গে স্পিনারদের কাজ করারও সুযোগ থাকবে। কিন্তু কাজটি সহজ হবে না। সেজন্য তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজদের যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হবে।

ইন্দোরে ভারতীয় তিন পেসার ঈশান্ত শর্মা, মোহাম্মদ শামি ও উমেশ যাদবের গতি, সুইং ও বাউন্সের কাছে অসহায় হয়ে তিনদিনে হেরেছিল মুমিনুল বাহিনী। পেসারদের দাপটে স্পিনারদের সাফল্য চোখে পড়ার মতো ছিল না। ইডেনের উইকেট আরও বেশি প্রাণবন্ত ও বাউন্সি। এমন উইকেটে ভারত তিন পেসার নিয়েই খেলবে নিশ্চিত। ইডেনের সর্বশেষ টেস্টটি জিততে পারেনি বিরাট কোহলির দল। কিন্তু ‘দ্বীপরাস্ট্র’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ বোলিং করেছিলেন ভারতীয় পেসাররা। ওই দলের ভুবেনেশ্বর কুমার নেই। কিন্তু বাকিরা রয়েছেন দুরন্ত ফর্মে। 

বাংলাদেশ আবার ভুগছে পেস অ্যাটাক নিয়ে। ইন্দোরে একমাত্র নজরকাড়া পারফরম্যান্স ছিল আবু জায়েদ রাহীর। এবাদত হোসেনের ছিলেন সাধারণ মানের। ইডেনের হার্ড ও বাউন্সি উইকেটে টাইগাররা তিন পেসার নিয়ে খেলতে পারে। মুস্তাফিজুর রহমান ও আল-আমিনকে দেখা যেতে পারে একাদশে। এক্ষেত্রে বসে থাকতে হতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজ কিংবা তাইজুল ইসলামের যে কোনো একজনকে। 

স্পিন কোচ ভেট্টরি মনে করেন গোলাপি বলে স্পিনারদের ভালো করতে খুব কষ্ট করতে হবে, ‘কলকাতায় সন্ধ্যাটা একটু আগেই নেমে পড়ে। কুয়াশায় গোলাপি বল গ্রিপ করা কঠিন। তাই স্পিনারদের বল করা কঠিনই হবে। তবে তাদেরকে সাফল্য পেতে হলে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে হবে। লাইন-লেন্থ ধরে রেখে রান আটকাতে হবে।’

ভারতের উইকেটগুলো এক সময় বাড়তি সুবিধা দিত স্পিনারদের। অবশ্য উইকেটগুলোতে তখন সাফল্য পেতেন ভারতীয় স্পিনাররাই। শেন ওয়ার্ন, মুত্তিয়া মুরলিধরন, ভেট্টরিদের উইকেট পেতে ঘাম ঝরেছে। এখন অবশ্য উইকেটের চরিত্র পাল্টেছে। হার্ড ও বাউন্সি উইকেট বানানো হচ্ছে। তারপরও স্পিনাররা ইডেনে কিছুটা হলেও সুবিধা পাবেন বলেন স্পিন কোচ, ‘ইন্দোরের স্পিনাররা খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি আগারওয়াল, পুজারাদের ব্যাটিংয়ের জন্য। আমি মনে করি ইডেনেও উইকেটের আচরণ একই রকম হবে। সুতরাং স্পিনারদের জন্য কাজটি কঠিন।’

ইন্দোরে তাইজুল, মিরাজরা উইকেট পাননি। কিন্তু ভেট্টরি রোমাঞ্চিত তাদের সঙ্গে কাজ করে, ‘আমি খুবই  রোমাঞ্চিত। তাইজুল ও মিরাজকে আগে থেকেই জানতাম। নাঈম স্পেশাল এক প্রতিভা। টি-২০ সিরিজে লেগ স্পিনার বিপ্লব আমায় মুগ্ধ করেছে। এছাড়াও ঢাকায় বেশ কিছু ভালো স্পিনার দেখে এসেছি।’ ভেট্টরিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এই সময় পর্যন্ত কিউই স্পিনার তার অভিজ্ঞতা দিয়ে আরও শাণিত করবেন স্পিনারদের।

 

বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য