শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০৯:৩৭
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১১:২৯
প্রিন্ট করুন printer

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ঘরের দেয়ালে ম্যারাডোনার ছবি

অনলাইন ডেস্ক

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ঘরের দেয়ালে ম্যারাডোনার ছবি

সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ফুটবলের বরপূত্র দিয়েগো ম্যারাডোনা। তার মৃত্যুতে শুধু ফুটবল নয়, বিশ্বজুড়ে সব ক্রীড়াঙ্গনেই পড়েছে শোকের ছায়া।

আর তা তো হওয়ারই কথা। কেননা, ইতিহাস রাঙানো অসংখ্য অর্জন, কীর্তি। প্রতিভা, উন্মাদনা,মাদকসহ নানা বিতর্ক, দ্রোহ, রোমাঞ্চ আর আবেগ সব মিলিয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনা একজনই। এসব ছাপিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন জীবনের চেয়েও বড় এক চরিত্র। গোটা দুনিয়াকে ফুটবলের উথাল প্রেমে মাতানো তারকা ম্যারাডোনা। সেই মানুষ সবাইকে কাঁদিয়ে আচমকা চলে গেলেন।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে স্মৃতিচারণ।এক চিত্রশিল্পী যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি ঘরের দেয়ালে ম্যারাডোনার ছবি এঁকেছেন। ওই ছবিতে দেখানো হয়েছে, আর্জেন্টিনার পতাকায় থাকা জ্বলজ্বলে সূর্যটা কাঁদছে। ম্যারাডোনার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতেই এই দেয়ালচিত্র এঁকেছেন ওই চিত্রশিল্পী।  

চিত্রটা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার। নিশ্চয়ই একটা পরিবারের বসবাস ছিল এই বাড়িতে। এখন ধ্বংসস্তূপের মাঝে পুরনো দেয়ালটা টিকে থাকতে সংগ্রাম করছে। বিবর্ণ দেয়াল জীবন্ত হয়ে উঠেছে তুলির আঁচড়ে। ঘরের দরজায় প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে একজন জাদুকর।

ফিদেল কাস্ত্রোর হাত ধরে কমিউনিজমের আদর্শ ধারণ ম্যারাডোনার। প্রয়াণেও কি অদ্ভুত সাদৃশ্য! ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর পৃথিবীর মায়া ছেড়েছিলেন কাস্ত্রো। ঠিক ৪ বছর পর একই দিনে চিরবিদায় বললেন সঙ্গী দিয়েগো ম্যারাডোনা।

বিশ্বজুড়ে যে মাতম চলছে, মৃত্যুর পরের জগত থেকে যদি দেখার সুযোগ থাকে তা আবেগাপ্লুত করে তুলবে ম্যারাডোনাকে। ওপারে হয়তো সিরিয়ার দেয়ালচিত্র দেখে অঝোরে কাঁদছেন। সাম্যবাদের আদর্শ ধারণ করা মানুষটার আশ্রয় বোমা আর বুলেটের আঘাতে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া এক পরিবারের চৌকাঠে।

জীবনের চৌকাঠ পেরিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন ম্যারাডোনা। বিশ্বকাপের ময়দানে ‘ঈশ্বরের যে হাত’ ফুটবলের রূপকথার অংশ হয়ে আছে, অভিশপ্ত বছরটায় সে হাতই যে ফিরিয়ে নিলেন ঈশ্বর। অনন্তকালের আমন্ত্রণে ঘুমন্ত অবস্থাতেই চিরনিদ্রায় চলে যান ফুটবল জাদুকর।

বাস্তবে এই দেয়ালচিত্র নিষ্প্রাণ। তবে সিরিয়ার চিত্রশিল্পী যে মুখচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা জীবদ্দশায় ছিল প্রাণশক্তিতে পরিপূর্ণ।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য