Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০৮
বেতন বাড়ানোর আন্দোলনে ৪০ পোশাক কারখানায় ছুটি
ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা দাবি শ্রমিকদের
সাভার প্রতিনিধি

সাভারের আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাক কারখানায় অব্যাহত শ্রমিক অসন্তোষের মুখে প্রায় ৪০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সকালে আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় প্রবেশের পর শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। দুপুরের দিকে একে একে ওই এলাকার প্রায় ৪০টি কারখানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এদিকে শ্রমিকদের অব্যাহত কর্মবিরতি সমাধানের জন্য শিল্পপুলিশ ও থানা পুলিশ দফায় আলোচনা করেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে বন্ধ করে দেওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের মালিকানাধীন স্টার্লিং ক্রিয়েশনসহ সেড ফ্যাশন, উইন্ডি গ্রুপ, ভান্দুরা গার্মেন্টস, জেবিএস, ডিজাইনার জিন্স, বান্দ ডিজাইন, সেতারা অ্যাপারেলস, দি রোজ ড্রেসেস, নিউ এজ গ্রুপ, এ এম ডিজাইন, পলমল, এনভয়, ভার্চুয়াল, বটমস, গ্রিন লাইফ, বার্ডস কারখানার নাম পাওয়া গেছে।

কারখানার শ্রমিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের মতো গতকার সকালে শ্রমিকরা কারখানা প্রবেশ করে ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা বেতনের দাবিসহ ১৬ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ভিতরে বিক্ষোভ শুরু করলে শিল্পপুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলো ছুটি ঘোষণা করে।

শ্রমিকরা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়ি ভাড়াসহ তাদের পারিবারিক ব্যয়ভার বেড়ে যাওয়ায় সরকারের কাছে ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা গঠনসহ ১৬ দফা দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিল করছেন। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে : বর্তমান বাজার দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, শ্রম আইনের ২৭-এর ৩(ক), ১৩(১) ধারা বাতিল, কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাজিরা বোনাস বৃদ্ধি, দৈনিক লাঞ্চ ভাতা বৃদ্ধি, যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধি, শুক্রবারের কাজের জন্য দ্বিগুণ ওভারটাইমের বিল দিতে হবে, যখন তখন শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, কর্মক্ষেত্রে মৃত হলে আজীবন আয়ের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশন, টাম্পাকো, কালার ম্যাক্স বিডি লিমিটেডসহ সব দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত, শিল্পাঞ্চলে সরকারি হাসপাতাল, স্কুল ও কলেজ নির্মাণ, মহিলা শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের আবাস, পরিবহন সুবিধা ও রেশনিং ব্যবস্থা চালু।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow