১৬ এপ্রিল, ২০২৪ ১২:১৭

কুমিল্লা শালবন বিহারে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

কুমিল্লা শালবন বিহারে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র গুলো ঈদ ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। কুমিল্লায় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর। বৌদ্ধ বিহার ছাড়াও পাশের রূপবানমুড়া, কোটিলা মুড়া, নগরীর ধর্মসাগরপাড়, গোমতী নদীর পাড়, রাজেশপুর ফরেস্ট বিট ও বাণিজ্যিক পার্কগুলোতে মানুষের ভিড় জমে।

সূত্রমতে, কুমিল্লা নগরী থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে শালবন বিহার। এখানে অষ্টম শতকের পুরাকীর্তি রয়েছে। রয়েছে ময়নামতি জাদুঘর। জাদুঘরের পাশে রয়েছে বন বিভাগের পিকনিক স্পট। শালবন বিহারের পাশে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রেল ও সড়কপথে যাতায়াতের সুব্যবস্থা থাকায় দর্শনার্থীরা এখানে সহজে আসতে পারেন। 

জাদুঘরের একটি সূত্র জানায়, ঈদের দিন থেকে তিন দিন ছোট বড় মিলিয়ে ৩০ হাজার দর্শনার্থী এসেছেন। রাজস্ব আয় হয়েছে ৮ লাখের কিছু বেশি। পহেলা বৈশাখে এসেছেন ৫ হাজারের মতো দর্শনার্থী। রাজস্ব আয় হয়েছে দেড় লাখের মতো।

শালবন বৌদ্ধ বিহারের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন রঙের ফুল তার রূপের পসরা সাজিয়ে বসে আছে। পাতা বাহারও তার সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। তাল গাছের মাথায় বাসা বোনায় ব্যস্ত বাবুই পাখি। খেজুর গাছের মাথায় ঝুলছে হলুদ ফলের কাদি। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের প্রভাব দেখা গেলেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কমেনি। 

এদিকে ঈদের ছুটিতে লাকসামের নওয়াব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি, মুরাদনগরের দৌলতপুরে কাজী নজরুলের স্মৃতি জড়ানো স্থান ও কয়েকটি জমিদার বাড়িতেও দর্শনার্থীরা ঘুরতে গেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার জালাল উদ্দিন বলেন, ঈদে শিশুরা কোথায়ও ঘুরতে যেতে চায়। কাছাকাছি কুমিল্লা শালবন বৌদ্ধবিহার রয়েছে। ঈদে সেখানে ঘুরতে গিয়েছি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইকবাল আহমেদ বলেন, কুমিল্লায় সম্প্রতি ভালো কিছু আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। সেখানে পরিবার নিয়ে থাকা ও খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। এবিষয় গুলো প্রচার হওয়া দরকার। দুই দিন হাতে নিয়ে এলে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখা যাবে।

শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. শাহীন আলম জানান, ঈদে এখানে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড় থাকে। গত ঈদুল ফিতরে আমাদের ৫ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে। এবারে ঈদ ও নববর্ষ মিলিয়ে তা ১০ লাখ হতে পারে। 

তিনি আরো জানান, হকার ও ক্যামেরাম্যানের উৎপাত বন্ধ করেছি। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায়ও আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। পর্যটন পুলিশ, আনসার, আমাদের সিভিল টিম কাজ করছে। সাথে সিসি টিভির নজরদারিও রয়েছে। তাই দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে ঘুরতে পেরেছেন।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

সর্বশেষ খবর