শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ জুন, ২০২১ ১৭:০০
আপডেট : ১৯ জুন, ২০২১ ১৭:০২
প্রিন্ট করুন printer

‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের আন্দোলনে ১০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে রাবি

রাবি প্রতিনিধি

‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের আন্দোলনে ১০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে রাবি
আন্দোলনে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকরা
Google News

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের আন্দোলনে আজ স্থগিত হয়েছে ফাইন্যান্স কমিটির সভা। এই সভা স্থগিত হওয়ার ফলে আনুমানিক ১০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্য বাস ভবনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সেই সভা পণ্ড করতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বাস ভবন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবন ও সিনেট ভবনে তালা লাগিয়ে দেয় রাবির সাবেক উপাচার্য আব্দুস সোবাহানের দেয়া অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা। তাদের বাধায় শেষ পর্যন্ত ফাইন্যান্স কমিটির সভা বাতিল করতে বাধ্য হন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা।

এ বিষয়ে আনন্দ কুমার সাহা বলেন, 'করোনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো সংস্কার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচ কোটিরও কিছু বেশি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। আগামী ৩০ তারিখে চলতি অর্থবছর শেষ হবে। টাকাগুলো ব্যবহার করতে এই সময়ের মধ্যে ফাইন্যান্স কমিটি ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফাইন্যান্স কমিটির সভা না হলে সেই টাকা মন্ত্রণালয়ে ফেরত চলে যাবে। এছাড়াও বিভিন্ন সংস্কার কাজের জন্য আরও প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মতো অনুমোদন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজকের অনিয়মতান্ত্রিক এক বাধার কারণে সেই সভা করা সম্ভব হলো না।'

এর আগে আজ সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে তালা লাগায় অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা। তালা লাগিয়ে সেই ভবনগুলোর সামনে অবস্থান নেন তারা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা সভা করতে এলে অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা বাধা দেন।  তখন সভা স্থগিত রাখতে বাধ্য হন উপাচার্য। পরে সেখান থেকে নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা নানারকম স্লোগান দিতে থাকে। এরপর আবার সাড়ে ১১ টার দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার বাসভবনে যান অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা। সেখানে তারা গিয়ে জানতে পারেন, অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার বাস ভবনে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম রয়েছেন। সেখানে গিয়ে তারা অধ্যাপক আবদুস সালামকে বাস ভবন থেকে বের করে দেয়ার জন্য উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা ও প্রক্টর লিয়াকত আলীকে বারবার অনুরোধ করেন। পরে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার বাস ভবন থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় নিয়োগপ্রাপ্তরা তার বিরুদ্ধ স্লোগান দিতে থাকে ও গালিগালাজ করে।

এ বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত আতিকুর রহমান সুমন নামে একজন জানান, আজ ফাইন্যান্স কমিটি ও আগামী ২২ তারিখে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আজ যদি ফাইন্যান্স কমিটির মিটিং হয়ত, তাহলে আগামী ২২ তারিখে সিন্ডিকেট হত। আমরা শুনেছি, ওই সিন্ডিকেট সভায় আমাদের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে। সে কারণে আমরা সিন্ডিকেট ও ফাইন্যান্স কমিটির মিটিং যাতে না হয়, সে জন্য আমরা ভবনগুলোতে তালা লাগিয়েছি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, 'রেজিস্ট্রার সাহেব চলে যাওয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে, সেটা আমি শুনেছি। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টা দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া তাদের যোগদান করতে দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।'

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

এই বিভাগের আরও খবর