১৩ জুন, ২০২২ ১৮:৩১

রাবিতে সিট বাণিজ্য ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন

রাবি প্রতিনিধি

রাবিতে সিট বাণিজ্য ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন

 

আবাসিক হলসমূহে সিট বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও নিপীড়ন এবং শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।

সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ‘আবাসিক হলগুলো দখল মুক্ত করো’, ‘সিট বাণিজ্য বন্ধ করে শিক্ষার্থীদেরকে মুক্ত করো, ‘নিয়ম মেনে শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা নিশ্চিত করো’, ‘সংকট সমাধানে রাকসু নির্বাচন দাও’ এমন লেখা সংবলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

মানববন্ধনে ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান নিজেকে সিট বাণিজ্যের ভুক্তভোগী দাবি করে বলেন, হলের বৈধ সিট পেয়েও আমি তিন মাসের মধ্যে হলে উঠতে পারিনি। ছাত্রলীগ হলগুলোতে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বৈধ সিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানান।

আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসউদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য আজ ধ্বংসের সম্মুখীন যার ফল আমরা ভোগ করছি। বৈধভাবে সিট বরাদ্দ পেয়েও দিনের পর দিন বাইরে থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। হলে অবস্থান না করেও হলের ভাড়া দিতে হচ্ছে তাদের। কোনো শিক্ষার্থী হলে উঠলেও তাদেরকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরতে গিয়ে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার পরও অনেকে কক্ষ দখল করে আছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হল মসজিদের একজন ইমাম কক্ষ পাচ্ছেন না। প্রশাসনকে যোগ্যতার ভিত্তিতে সিট বন্টনের আহ্বান জানান তিনি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী মামুন হায়দার বলেন, শুধু আবাসিকতার কথা বললে হবে না। শিক্ষার্থীরা ডাইনিংয়ে কি খায় প্রশাসন কি কখনো খোঁজ খবর নেয়? বিশেষ বিশেষ লোকের জন্য বিশেষ বিশেষ রান্না হয় অভিযোগ করে তিনি বলেন, হল প্রভোস্টদের প্রত্যেক বেলা ডাইনিংয়ে খাওয়া উচিত। যখন প্রভোস্টরা হলে খেতে যান তখন খাবারের মান পাল্টে যায়। বাংলাদেশ ছাড়া এমন নিকৃষ্টতম কাজ অন্য কোনো দেশে হয় কিনা আমার জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বীর মুক্তিযোদ্বা নূর হোসেন মোল্লা বলেন, আমি আমার মেয়ের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ভয়াবহ তথ্য শুনেছি। মেয়েদের জন্য সান্ধ্য আইন করা হয়েছে এর পেছনের কারণ কি? এর কারণ হলো বখাটে ছেলেদের হাত থেকে মেয়েদেরকে রক্ষা করা। কিন্তু ক্যাম্পাসতো বখাটে ছেলেদের জন্য নয়। তিনি বলেন, এ রকম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার জন্য আমরা দেশ স্বাধীন করিনি। আজকের বাংলাদেশ আমাদেরকে হতাশ করেছে।

কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ আহসান নকিব, অর্থনীতির বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ফিশারীজ বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়ামিন হোসাইন, সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.আখতার মজুমদার, চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুস সালাম, রয়াসন বিভাগের আব্দুল্লাহ শামসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।

বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল 

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর