শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ জুলাই, ২০২০ ১২:৫০

লন্ডনের বিশেষ ফ্লাইটের টিকিটে ‘স্পেশাল’ দুর্নীতি!

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট


লন্ডনের বিশেষ ফ্লাইটের টিকিটে ‘স্পেশাল’ দুর্নীতি!

করোনা পরিস্থিতিতে সিলেটে আটকা পড়েছেন হাজারো যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তারা এত দিন ফিরতে পারেননি যুক্তরাজ্যে। ২১ জুন থেকে ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইট চালু হওয়ার পর প্রবাসীরা ফিরে যেতে ভিড় করছেন বিমান অফিস ও বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে। কিন্তু পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সময়ে ফিরে যাওয়া নিয়ে প্রবাসীদের মাঝে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। রিটার্ন টিকিটে আসা যাত্রীরা টিকিট কনফার্ম করতে গেলে তাদের দেওয়া হচ্ছে নভেম্বরের শিডিউল। এদিকে, যুক্তরাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল খুলে যাওয়ায় অনেকে সময়মতো ফিরে যাওয়া নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। এ অবস্থায় আটাব সিলেট অঞ্চলের নেতারা সিলেটে আটকেপড়া প্রবাসীদের জন্য বিমানের বিশেষ ফ্লাইটের দাবি জানান। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিশেষ ফ্লাইট দেওয়া হলেও টিকিট নিয়ে উঠেছে ‘স্পেশাল’ দুর্নীতির অভিযোগ। বিমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টিকিট বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন সিলেটের আটাব নেতারা।

জানা গেছে, ২১ জুন থেকে ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটে সপ্তাহে একটি করে বিমানের ফ্লাইট চালু করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ফ্লাইটে পরিবহন করা হচ্ছে অর্ধেক যাত্রী। ফ্লাইটের সংখ্যা কম হওয়ায় রিটার্ন টিকিটের যাত্রীদের শিডিউল দেওয়া হচ্ছে তিন-চার মাস পরের। আর নতুন টিকিট কেটে যুক্তরাজ্য যাওয়া যেন রীতিমতো দুঃস্বপ্ন। এ অবস্থায় ২৯ জুন আটাব সিলেট অঞ্চলের পক্ষ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট জেলা ম্যানেজারের কাছে বিশেষ ফ্লাইটসহ সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ জুলাই ঢাকা-লন্ডন রুটে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিশেষ এ ফ্লাইটের টিকিটের দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আটাব সিলেট অঞ্চলের সভাপতি মোতাহার হোসেন বাবুল অভিযোগ করেন, তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ ফ্লাইট বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিমানের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ মজুমদার টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের আশ্রয় নেন। তার যোগসাজশে সিন্ডিকেটের হাতে চলে যায় টিকিট। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিমান অফিস থেকে বিক্রি করা হয় টিকিট। এতে যাত্রীরা হয়রানির শিকার।

আটাব নেতারা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ইমেইল করে ট্রাভেলস এজেন্টদের জানানো হয় পরদিন শুক্রবার বেলা ২টায় অনলাইনে ‘বিশেষ’ ফ্লাইটের টিকিট ওপেন করা হবে। কিন্তু সিস্টেম ওপেনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেখা যায় সব সিট বুকিং হয়ে গেছে। আটাব নেতাদের অভিযোগ, অনিয়ম রোধে তারা বিশেষ ফ্লাইটের টিকিট বুকিং কনফার্মের জন্য ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ তা না করে সময় দেন ১২ ঘণ্টা। এতে ‘ফেইক বুকিং’ দিয়ে আসন ধরে রাখার সুযোগ পায় অসাধু চক্র। আর এ সুযোগ করে দেন বিমান সিলেটের ব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ। ওই চক্রটিকে সুযোগ করে দিতেই বৃহস্পতিবার রাতে অফিস বন্ধের পর মেইল পাঠানো ও পরদিন টিকিট বুকিংয়ের সময় নির্ধারণ করা হয়।
 
আটাব সিলেটের সভাপতি বাবুল আরও জানান, রিটার্ন টিকিটধারী যেসব যাত্রীকে অক্টোবর-নভেম্বরে শিডিউল দেওয়া হয়েছিল, তার অনেককে ফোনে বিমান অফিসে ডেকে নিয়ে ওই স্পেশাল ফ্লাইটের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে ২০-২৫ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিমানের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ মজুমদার বলেন, আটাব নেতাদের অনুরোধে তিনি চেষ্টা করে স্পেশাল এ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছিলেন। টিকিট ওপেনের পর যারা ফেইক বুকিং দিয়েছিলেন পরে কনফার্ম না করায় তা বাতিল হয়ে যায়। এ ফেইক বুকিংয়ের সঙ্গে সিলেটের অনেক ট্রাভেল ব্যবসায়ীও জড়িত। বিমান অফিস থেকে টিকিট বিক্রি বা অনিয়মের অভিযোগগুলো ডাহা মিথ্যা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর