শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ আগস্ট, ২০২০ ২০:০৯

শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম-পরিকল্পনা অনুযায়ী শুদ্ধাচার পুরস্কার পেয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। সোমবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে শুদ্ধাচার পুরস্কার তুলে দেন বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ। সরকারি সেবা প্রদানে শুদ্ধাচার চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য দুইজন হলেন- বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত এবং উন্নয়ন শাখার উচ্চমান সহকারী নেপাল কান্তি দাশ।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) খন্দকার জহিরুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনসহ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ এনডিসি বলেন, ‘সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা বিনির্মাণে শুদ্ধাচার চর্চার কোন বিকল্প নেই। প্রশাসন যত বেশি শুদ্ধ হয়ে মানুষের প্রতি সেবামুখী হবে ততই জাতির কল্যাণ হবে। দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড আরো ত্বরান্বিত করতে হলে প্রত্যেককে অবশ্যই শুদ্ধাচার কৌশল অবলম্বন করতে হবে। লোভ সংবরণ করে শুদ্ধাচার চর্চা করতে পারলে একদিকে মানুষ উপকৃত হবে, অন্যদিকে নিজেরা সর্বত্র সম্মানিত হবে।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইলিয়াস হোসেন জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর উন্নয়ন ও সেবামূলক নানা কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে আছে চট্টগ্রাম বন্দরের লাইফ লাইন খ্যাত কর্ণফুলী নদীর দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠা ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ১০ একর জায়গা উদ্ধার, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার অবকাঠামোগত অভূতপূর্ব উন্নয়ন-সংস্কার, সাধারণ ও অবহেলিত দুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রাণি বিষয়ক সচেতনতামূলক শিক্ষা কার্যক্রম, নতুন নতুন প্রাণি সংযোজন-সংরক্ষণ, নগরের সরকারি-বেসরকারি মালিকানাধীন ১৭টি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ, দেশের প্রথম জেলা হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়ে কাগুজে লাইসেন্সের পরিবর্তে ‘স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স’ কার্ড প্রদান, স্মার্ট ডিলিং লাইসেন্সের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের ১৭টি সেবা ডিজিটালাইজড করা, ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় চেক প্রদানে স্বচ্ছতা আনতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তার বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ চালু এবং করোনা সংক্রমণ শুরুর পর সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, কর্মহীন দিনমজুরদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ করোনার চিকিৎসা সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর