শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০১:৫৫
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:৩৭
প্রিন্ট করুন printer

‘সর্বজনের সেবক’ হতে চাই, বাংলাদেশ প্রতিদিনকে রেজাউল করিম চৌধুরী

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম

‘সর্বজনের সেবক’ হতে চাই, বাংলাদেশ প্রতিদিনকে রেজাউল করিম চৌধুরী
রেজাউল করিম চৌধুরী। ফাইল ছবি

‘সর্বজনের সেবক’ হতে চান চট্টগ্রাম সিটির নবনির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।  বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত ঘোষিত হওয়ার পরই এক প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম শহর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ত্যাগী এই নেতা বলেন, সদ্য সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও বিদারী প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন- এই  দু’জনকে সাথে নিয়েই কাজ করবেন তিনি । 

চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন দলের-মতের প্রতিনিধিদের গুরুত্ব দিতে চান এই নেতা। মোদ্দাকথা,  দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস এবং মানুষের আস্থার সম্মান জানাতে চান’ বলেই জানিয়েছেন রেজাউল করিম চৌধুরী।
 
তিনি বলেন, দল ও নগরবাসী সমর্থন দিয়ে যে সম্মান আমাকে দিয়েছেন, এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। এখন আমার প্রিয় শহর চট্টগ্রাম ও মানুষকে দেবার সময়। এই লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা চাই। গণমাধ্যমেরও সহযোগিতা চাইলেন তিনি।

সুষ্ঠুভাবে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় নগরবাসী, প্রশাসন ও গণমাধ্যমসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রেজাউল করিম চৌধুরী।  তিনি জানান, শহরবাসীর সেবায় সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রেখে যাওয়া জনবান্ধব কাজগুলো করে যেতে চান তিনি। সেবাবান্ধব চট্টগ্রাম গড়তে চান তিনি। এই লক্ষ্যে নাগরিক পেশাজীবী সমাজের যেকোনো পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করবেন বলেও জানান এই নেতা।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগকেও নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটুকু দিতে চান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মহানগরেই আমার বেড়ে ওঠা। এই সিটি ভোটে এই শহরের মানুষ দলীয় ঐক্যের পাশাপাশি আগ্রহ ভরে আমার উপর আস্থা রেখেছেন। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ ও অভিভূত! এ বিজয় উন্নয়ন আগ্রহী জনতার। 

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বহরদার পরিবারে জন্ম নেয়া রেজাউলের মাথায় নগরপিতার মুকুট প্রাপ্তিতে চশমা হিল ও আন্দরকিল্লাহর মেয়র গলির যাত্রাপথটি হবে এখন বহদ্দার হাট লাগোয়া বহদ্দার বাড়ি সড়কেই। 

পারিবারিক উত্তরাধিকার ধরেই মানুষের সেবার পথে হাঁটতে চান আওয়ামী লীগের এই নেতা। তিনি টানা প্রায় তিন যুগ বিভিন্ন নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিন বঞ্চিত এই নেতা গেল বছরের মধ্য ফ্রেব্রুয়ারিতে অনেকটা অভাবনীয়ভাবে মেয়র পদে দলীয় প্রধানের মনোনয়ন পান। 

মনোনয়নের শীর্ষদের কাতারে আলোচনায়ও না থাকা এই নেতার এই প্রাপ্তিতে দলের বঞ্চিতদের মাঝে আশা জেগে ওঠে। তার পূর্ব পুরুষেরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মসজিদসহ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন। ছাত্র রাজনীতির পাট নিয়ে আসা রেজাউল করিম চৌধুরী একজন লেখক ও গবেষকও। একাধিক গ্রন্থ প্রণেতা তিনি। লিখেছেন উগ্র মৌলবাদ ও কালো টাকা নির্ভর রুগ্ন রাজনীতি থেকে মুক্তির কথাও। 

তার গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে,  'জামায়াত শিবিরের হিংস্রতা ও ধর্মীয় রাজনীতি (১৯৯৩), ছাত্রলীগ ষাটের দশকে চট্টগ্রাম (২০১৬) এবং স্বদেশের রাজনীতি ও ঘরের শত্রু বিভীষণ (২০১৯)।  তিনি মাসিক অযুত কণ্ঠ (১৯৭২), বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৬ সালে সামরিক শাসনকে উপেক্ষা করে ‘সূর্যপথ’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। পাক্ষিক পত্রিকা ‘বারুদ’ এর সম্পাদকও ছিলেন। 

চট্টগ্রমের উন্নয়নের দাবিতে সর্বপ্রথম সংগঠন 'চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ'-এ যুক্ত ছিলেন রেজাউল। ১৯৮৩-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি 'চট্টগ্রামের দুঃখ' খ্যাত 'চাক্তাই খাল খনন সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৫৩ সালের ৩১ মে বহরদার পরিবারের হারুন-অর-রশিদ চৌধুরী ও সামসুন নাহার বেগমে ঘরে রেজাউল করিম চৌধুরীর জন্ম। 

বাবা ছিলেন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও দাদা ছালেহ আহমদ চৌধুরীও ছিলেন ইংরেজ শাসিত ভারত এবং পাকিস্তান আমলে চট্টগ্রামের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী। পিতামহ চট্টগ্রামে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত বিলুপ্ত কমরেড ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন। পাকিস্তান আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনেও পরিবারটির অবদান ছিল। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে দুই মেয়ে, এক পুত্রের জনক। তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার একজন গৃহিণী। তার বড় মেয়ে তানজিনা শারমিন নিপুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

রেজাউল করিম  চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাশ করে আইনে পড়তে ভর্তি হলেও ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে আর ফাইনাল দিতে পারেননি।

১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে যোগ দিয়ে ১৯৬৯-১৯৭০ এ চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ৭০-৭১ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, ৭২-৭৬ সালে সভাপতি হন। ৭০ সালে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ কার্যকরী কমিটির সদস্য, ৭২-৭৩ সালে দপ্তর সম্পাদক, ৭৩-৭৫ এ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ৭৬-৭৮ সালে সাধারণ সম্পাদক, ৭৮-৭৯ সালে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। 

পরে ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্ , ৯২ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য, ৯৭-২০০৬ সালে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং ২০০৬-১৪ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৪ সাল থেকে যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার মেয়র পদে তার এই অর্জনে ক্ষমতাসীন দলে শুরু হল নতুন উদ্দীপনা। চসিকেও শুরু হল নবযাত্রা।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর