শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল, ২০২১ ১৮:২২
প্রিন্ট করুন printer

ব্যাংক কর্মকর্তাকে মানসিক নির্যাতন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

ব্যাংক কর্মকর্তাকে মানসিক নির্যাতন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ

মানসিক নির্যাতন করে আব্দুল মোরশেদ চৌধুরী নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল হক চৌধুরী রাসেল, জাবেদ ইকবাল, পারভেজ ইকবাল এবং নাইম উদ্দিন সাকিব নামে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মোরশেদের পরিবার। 

অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়ের করার পর চার দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করেনি। পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুইয়া বলেন, মোরশেদকে আত্মহত্যা প্ররোচনার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে কয়েকটা জায়গায় অভিযানও চালানো হয়েছে।

মৃতের স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী অভিযোগ করেন, মোরশেদ ব্যবসার জন্য জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, পারভেজ ইকবাল চৌধুরী এবং সৈয়দ সাকিব নাঈম উদ্দিনের কাছ থেকে বিভিন্ন দফায় ২৫ কোটি টাকা ধার নেন। বিপরীতে তাদের কাছে লাভসহ ৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু তারা বেশি লভ্যাংশের দাবিতে আমার স্বামীর উপর মানসিক চাপ, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। তাদের অনৈতিক চাপের কারণে আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে। সুইসাইড নোটে তিনি সব ঘটনা বলে গেছেন। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ কোন ও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এখন আসামি পক্ষ উল্টো মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ-, ব্যবসার প্রয়োজনে চেক জামানত সাপেক্ষে টাকা ধার নিলেও অর্থ পরিশোধের পরও চেক ফেরত দেয়নি অভিযুক্তরা। কৌশলে টাকা ফেরত নেয়ার পরও চেক ডিজনার মামলা দায়ের করে। প্রভাব খাটিয়ে তুলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট কেড়ে নেয়া এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপণ্য করার কারণে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আব্দুল মোরশেদ চৌধুরী আত্মহত্যা করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার হিলভিউ আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় আব্দুল মোরশেদ চৌধুরী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মোরশেদ মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাংক আল ফালাহ্ আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ

এই বিভাগের আরও খবর