শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ মে, ২০২১ ১৯:১০
প্রিন্ট করুন printer

রেলের কর্মচারীদের কোটি টাকা লোপাট, ফেঁসে যাচ্ছেন আরও অনেকেই

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

রেলের কর্মচারীদের কোটি টাকা লোপাট, ফেঁসে যাচ্ছেন আরও অনেকেই
টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গ্রেফতার ফয়সাল মাহমুদ
Google News

রেলওয়ের কর্মচারীদের কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় এবার ফেঁসে যেতে পারেন রেলের ঊর্ধ্বতন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ নেপথ্যের কিছু কর্মচারীও। দীর্ঘদিন ধরেই গ্রেফতারকৃত জুনিয়র অডিটর ফয়সাল মাহমুদ এমন ঘটনা ঘটিয়ে আসছেন, কিন্তু অদৃশ্য কারণে প্রকাশ হয়নি, এতদিন পরেই কেন এই অনিয়মের তথ্য ফাঁস হলো সেটি নিয়েও গুঞ্জন চলছে খোদ রেল অঙ্গনেও। এমন ঘটনা শুধু রেল নয়, অন্য স্থানেও ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন অনেকেই।

তাছাড়া রেলের এই অডিট বিভাগের মধ্যে বিভিন্ন বাসা, বাংলা বরাদ্দ নিয়েও নানা কৌশলী ঘটনা ঘটে আসছে দীর্ঘ বছর ধরেই। বাংলো পাওয়ার যোগ্য নন, এমন জুনিয়র স্টাফদের বাসার বদলে অফিসারদের বাংলো দিতে নিয়েছেন কৌশলী ভূমিকাও। এতে ইএফটির সুবিধায় বেতনগ্রহণকারীদের মধ্যে একটা আশার আলো জাগালেও নানা ধরণের আতঙ্কও কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

রেলওয়ে ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অর্থ ও হিসাব শাখার জুনিয়র হিসাব কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ সু-কৌশলে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এটি গত রবিবার থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যেই (বুধবার) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশনা দিয়েছেন পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

অন্যদিকে এই দেড় কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা তফসিলভূক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এখন মামলা পরিচালনা ও তদন্ত উভয় করবে দুদক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রেল কর্মচারী বলেন, এখানে অনেক সমস্যা আছে। একজন জুনিয়র অডিটর একা এসব কাজ করতে সাহস পাবে না। এটা নেপথ্যে আরও অনেকেই জড়িত থাকতে পারেন। তাদের চিহ্নিত করলে তলের বিড়াল বের হয়ে আসবে বলে জানান তারা।

পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রেলওয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে দেড় কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি তিন কার্যদিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা হয়েছে। তবে এটা ছাড়াও রেলের আরও কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

রেলের প্রধান অর্থ ও হিসাব অধিকর্তা (পূর্ব) কামরুন্নাহার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের চেষ্টায় রয়েছি। ইতোমধ্যেই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এখানে কত টাকা সেটার পরিমাণ এখন নিশ্চিত না হলেও স্বীকার করেছে ৫০ লাখ টাকা। টাকার অংকটা আরও বেশী হতে পারেও বলেন তিনি।

রেলওয়ে পাহাড়তলী হিসাব শাখার ডেপুটি ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজার মো. শাহজাহান বলেন, একজন অফিসারের দেওয়া তথ্যে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে গোপনে তদন্তে সত্যতা পেয়ে অর্থ ও হিসাব অধিকর্তাকে (পূর্ব) অবহিত করি। তার তত্ত্বাবধানে বিষয়টি উদঘাটন এবং দ্রুত ওই কর্মকর্তাকে আটকের মাধ্যমে অর্থ উদ্ধারের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তবে মূলত আইভাস সিস্টেমের কারণেই জালিয়াতির বিষয়টি উদঘাটন করতে সক্ষম হয় এবং আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারে অভিযুক্ত কর্মকর্তার চারটি ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের অর্থ ও হিসাব শাখার জুনিয়র অডিটর ফয়সাল মাহমুদ (৩৫) জালিয়াতির মাধ্যমে রেলওয়ের ৫টি দপ্তরের কর্মকর্তাদের বেতনের ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ইনটেগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (আইবাস) সিস্টেমের কারণে অর্থ জালিয়াতির এই ঘটনা প্রকাশ পায়। 

এরপর ৮ মে ফয়সাল মাহমুদকে আটক করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায় স্বীকার করেন তিনি। 

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই বিভাগের আরও খবর