শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

এবার ৬ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ ধরার টার্গেট

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:

এবার ৬ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ ধরার টার্গেট

দীর্ঘ ৬৫ দিন বেকার সময় কাটানোর পর এখন আবারও সাগরে নামছেন জেলেরা। ঘাট গুলোও জমে উঠবে। অভাব-অনটন আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়াবেন বলে আশাবাদী জেলেদের। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর শুক্রবার (২৩ জুলাই) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে মাছ শিকার। দীর্ঘদিন সাগরে মাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকার পর এবার ভালো সুফল মিলবে। তবে এবার ৬ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ ধরার টার্গেট নিয়েছেন সামুদ্রিক মৎস অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলরা।

তবে জেলেরা মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, উপকরণ এবং খাদ্য সামগ্রী ট্রলারে উঠানো শুরু করেছেন শুক্রবার থেকে। কর্ণফুলী তীরের বিভিন্ন ঘাটে জাল ও ফিশিং ট্রলারের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ ফিশিং ট্রলার সারি সারিভাবে ঘাটে নোঙ্গর দেওয়া রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।

বাঁশখালী এলাকার জেলে রহমত মাঝি বলেন, গত দুই মাস সাগরে মাছ শিকার বন্ধ ছিল, আমরা কেউ মাছ শিকারে যাই নি। ধার-দেনা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে কস্টে দিন কাটিয়েছি। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ তাই সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের ফিশিং ট্রলারে ২০ জন জেলে রয়েছে। সবাই মাছ শিকারে যেতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

চন্দন দাশ নামের আরেক জেলে বলেন, ২০ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। যখন মাছ ধরা বন্ধ থাকে সেই নিয়মটি আমরা মেনে চলি। এবারও মেনে চলেছি। এতে আমাদের অনেক কস্টে দিন কাটাতে হয়েছে। আশা করি কাঙ্খিত পরিমাণ মাছ পেলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো। একই কথা বললেন বিপুল দাশ, রাজিব মাঝি ও শিতল দাশসহ অনেকেই।

সামুদ্রিক মৎস অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মঞ্জুর আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাগরে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলিশসহ সকল প্রজাতির মাছ ধরা গত ১৯ মে মধ্য রাত থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মধ্য রাত থেকে সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ। এখন আর জেলেদের মাছ শিকারে যেতে বাধা নেই। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের চাল দেওয়া হয়েছিল।

সামুদ্রিক মৎস অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সুমন বড়ুয়া বলেন, বিগত বছর গুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে আমরা এ বছর প্রায় ৬ লাখ টন ইলিশ আহরণ করা যাবে বলে আশা করছি। ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। বর্তমানে ১২৫ থেকে ১৩০টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে ইলিশের অভয়াশ্রম রয়েছে। তবে গত বছর ৫ লাখ টেট্রিক টন ইলিশ ধরা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন অর্থাৎ ৮ মাস জাটকা (৯ ইঞ্চির কম সাইজের ইলিশ) নিধনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এতে বছরে অন্তত দশ মাস মাছ শিকার বন্ধ থাকায় সাগরে মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। শুধু ইলিশই নয়, সব ধরনের মাছই বড় হয়েছে। যার সুফল মিলবে দেশের মৎস্য খাতে। জেলেরা জানান, এবার পদ্মা ও মেঘনায় বড় বড় ইলিশ ধরা পড়তে পারে। দীর্ঘ দিন মাছ শিকার বন্ধ থাকায় মেঘনা ও পদ্মায় অভয়ারণ্যে মাছ বেশ বড় হয়েছে। সাগরে মাছ শিকার বন্ধ থাকলেও দেশের নদী গুলোতে মাছ শিকার অব্যাহত ছিল।

সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ভাবে সারাদেশে নিবন্ধিত ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯৫ জন জেলে ও জেলে শ্রমিক রয়েছে। বাণিজ্যিক ট্রলার রয়েছে ৩০ টি। যান্ত্রিক মৎস নৌযান রয়েছে ৩২ হাজার।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 

এই বিভাগের আরও খবর