শিরোনাম
১৬ মে, ২০২২ ১৮:৪৭

হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম:

হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ

হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। সোমবার ভোরে নদীর বেশ কিছু স্থানে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ নমুনা ডিম ছাড়ে। এর আগেও গত শনিবার রাত ১১টার দিকে জোয়ারের সময় ও রাত তিনটার দিকে ভাটার সময় এবং গত রবিবার দুপুরে নদীর বেশ কিছু পয়েন্টে নমুনা ডিম পাওয়া যায়। তবে পুরোদমে ডিম ছাড়ার জন্য বজ্রসহ বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের অপেক্ষায় আছে মা মাছ।        

জানা যায়, প্রতিবছর মে-জুন মাসের মধ্যে ডিম ছাড়ে মা মাছ। বজ্রসহ বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও আকাশের গর্জন হলে মা মাছ ডিম ছাড়ে। এর সঙ্গে লাগে পূর্ণিমার জো। হাটহাজারীর রামদাস মুন্সিরহাট, মাছুয়াঘোনা, নাপিতের ঘাট, আমতুয়া, নয়াহাট ও রাউজানের আজিমের ঘাট, খলিফারঘোনা এলাকায় একজন ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত ডিম আহরণ করে। ডিম থেকে পোনা প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে চারটি হ্যাচারি। বেসরকারি পর্যায়ে আছে ১৭৬টি মাটির কুয়া। এবার ডিম সংগ্রহে আছে প্রায় ৫০০ নৌকা এবং প্রায় এক হাজার ২৫০ জন ডিম সংগ্রহকারী।    

স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারী কামাল উদ্দিন সওদাগর বলেন, গত কয়েকদিন ধরে নমুনা ডিম দেখে আমরা আগ্রহ নিয়ে নদীতে নামি। কিন্তু মা মাছ ডিম ছাড়েনি। গত রবিাবর রাতে প্রচুর বৃষ্টির পর এখন প্রতিবারে ২০০-২৫০ গ্রাম করে ডিম উঠছে।  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘ভোররাতে মা মাছ নমুনা ডিমের চেয়ে একটু বেশি ডিম ছেড়েছে। পুরোদমে ডিম ছাড়ার জন্য বজ্রসহ বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ডিম সংগ্রহের জন্য হালদা নদীর গড়দুয়ারা নয়া হাট থেকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ডিম সংগ্রহকারীরা প্রস্তুত আছেন।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল আলম বলেন, ভোরে ও গত শনিবার রাতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। এ সময় সাত থেকে আটটি নৌকায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন ডিম সংগ্রহকারী ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম করে নমুনা ডিম সংগ্রহ করেছেন।

জানা যায়, ২০০৭ সাল থেকে হালদা নদীর মাছের ডিম সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়ে আসছে। ২০০৭ সালে সংগ্রহ করা হয় ২২ হাজার ৩১৪ কেজি, ২০০৮ সালে ২ হাজার ৪০০ কেজি, ২০০৯ সালে ১৩ হাজার ২০০ কেজি, ২০১০ সালে ৯ হাজার কেজি, ২০১১ সালে ১২ হাজার ৬০০ কেজি, ২০১২ সালে ২১ হাজার ২৪০ কেজি, ২০১৩ সালে ৪ হাজার ২০০ কেজি, ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ কেজি (নমুনা ডিম), ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৯ সালে প্রায় সাত হাজার কেজি, ২০২০ সালে ২৫ হাজার ৫৩৬  কেজি এবং ২০২১ সালে ৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল।    

বিডি প্রতিদিন/এএম

         

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর