শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০১:৫৪
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০১:৫৮

ফুটবল ভালোবাসতো ছেলে, জার্সি দেখে লাশ চিনলেন মা

অনলাইন ডেস্ক

ফুটবল ভালোবাসতো ছেলে, জার্সি দেখে লাশ চিনলেন মা

প্রিয়জনের খোঁজ না পেয়ে হাসপাতালের মর্গের সামনে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুণছেন স্বজনরা। তবে কেউ নিশ্চিত হতে পারছেন না তার প্রিয়জনের মরদেহ এখানে আছে কিনা। তবুও যেন সান্ত্বনা খুঁজে বেড়ানো। তাদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে হাসপাতালের পরিবেশ।

সেখানে স্বজন হারানোদের ভিড় বাড়ছেই। তারা নাম দেখে জানতে চেষ্টা করছেন তাদের স্বজনদের কেউ রয়েছে কিনা। এছাড়া লাশ দেখেও সনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে মৃতদের অধিকাংশের চেহারাই এমনভাবে পুড়ে গেছে যে কোনও ভাবে তা থেকে বোঝার উপায় নেই, কার লাশ কোনটি। তারপরও যারা চিঞ্চিৎ শনাক্ত করতে পারছেন তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে নাতির (মেয়ের ছেলে) জন্য দাঁড়িয়ে থাকা তেমনই একজন ৯০ বছরের বৃদ্ধা মমতাজ বেগম। বুধবার পুরান ঢাকার চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন মমতাজ বেগমের নাতি নয়ন। 

মর্গের সামনে বৃদ্ধা মমতাজ বেগমের আহাজারি, ‘ও ভাই আমাকে মাটি দিবা না। আমারে ছাড়িয়া কই গেলা। ও ভাইরে তোরে আর দেখতে পাব না। ও ভাই তুমি কই গেলা। আমি ভাইরে দেখমু। আমারে ভাইয়ের কাছে নিয়া যাও।’ 

নয়নের মা কোহিনুর বেগম বলেন, নয়ন ফুটবল খেলতে ভালোবাসতো। আজ ওদের ফুটবল খেলা ছিল। নয়নের গায়ে সেই ফুটবলের জার্সি ছিল। জার্সিতে নয়নের নাম লেখা রয়েছে। এই নাম লেখা দেখেই তারা মেডিকেলে নয়নের লাশ চিনতে পেরেছেন।

উল্লেখ্য, চকবাজারে বুধবার রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৭০ জন পুড়ে মারা গেছে। চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আবাসিক ভবনটিতে কেমিক্যাল গোডাউন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

 

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য