শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ১৩:২২

নৈশপ্রহরী নাছির হত্যার রহস্য উদঘাটন

ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় নাছিরকে বটি দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা


নৈশপ্রহরী নাছির হত্যার রহস্য উদঘাটন

কুমিল্লার চান্দিনায় মহাসড়কে নৈশপ্রহরীর ও দোকানদার নাছির উদ্দিনের ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার ১০ দিন পর হত্যাকাণ্ডে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করায় নাছিরকে হত্যা করা হয়। হত্যার সময় দোকানের লাইট অফ করে আসামি মোয়াজ্জেম, বটি দিয়ে কোপ দেয় সানাউল্লাহ।

চান্দিনার গ্রামের বাখরাবাদের মোয়াজ্জেম হোসেন (২৫) এবং অটোরিক্সা চালক নাওতলা গ্রামের সানাউল্লাহকে (২৪) আটকের পর তারা পুলিশকে এ তথ্য জানায়। 

বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ২২ জানুয়ারি চান্দিনা এলাকা থেকে মোয়াজ্জেম নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। মোয়াজ্জেমের দেওয়া তথ্য মতে সানাউল্লাহ আটক করা হয়। 

সূত্রে জানা যায়, সানাউল্লাহ গত ৭ জানুয়ারি রাতে ১৫ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে। সানাউল্লাহ গত ১২ জানুয়ারি বিকালে নাছির উদ্দিনের দোকানে আসলে কেন প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করলো, ধর্ষণ করে কিভাবে এলাকায় ঘুরছে এমন প্রশ্ন করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সানাউল্লাহ। এসময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সানাউল্লাহ রাতে মোয়াজ্জেম নামে অপর একজন অটোরিকশা চালককে সাথে নিয়ে প্রতিশোধ নিতে আসে। নাছিরের দোকানের লাইট নেভায় মোয়াজ্জেম। বটি দা দিয়ে নাছিরকে কোপ দেয় সানাউল্লাহ। নাছির জীবন বাঁচাতে দৌঁড়ে পাশের মহাসড়ক পারাপারের সময় গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়। গাড়ির চাকার সাথে নাছিরের মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে মহাসড়কের দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে।

প্রসঙ্গত, ১২ জানুয়ারি রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নাওতলা আলিম মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি মার্কেটে নৈশ প্রহরীর কাজ করত নাওতলা গ্রামের রবিউল্লাহ। ওই মার্কেটে চা দোকানের ব্যবসা করত রবিউল্লাহর ছেলে নাছির উদ্দিন। রবিবার রাতে বাবার বদলে নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে ছেলে নাছির উদ্দিন। গত ১৩ জানুয়ারি সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা থেকে নাছির উদ্দিনের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন মরদেহের অংশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। নিহতের পিতা রবিউল্লাহ দাবি করেন, তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে তিনি দোকানে রক্তের চিহ্ন দেখান পুলিশকে।

বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব


আপনার মন্তব্য