১৬ জুলাই, ২০২২ ০৫:৪৫

সমাজসেবা কর্মকর্তার অনৈতিক দাবির অডিও ফাঁস

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

সমাজসেবা কর্মকর্তার অনৈতিক দাবির অডিও ফাঁস

রংপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিখা রাণী রায়ের বিরুদ্ধে একটি মামলার প্রতিবেদন দিতে অনৈতিক লেনদেনের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এঘটনায় সমাজসেবা অধিদপ্তর ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে শিখা রানী দোষী কি না এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি বিভাগীয় সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন। 

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, আফসানা মিমি নামে এক নারী চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১ এ স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত  করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রংপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিখা রাণী রায়কে নির্দেশ দেন আদালত। ৫ মাসেও শিখা রানী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি। শিখা রানী ভুক্তভোগীদের কাছে ঘুষ দাবি করেন। একপর্যায়ে আফসানা মিমির দরিদ্র বাবা আফসার আলী ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে দেন। কিন্তু বুধবার আদালতে বিপক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করায় ওই দিন বিকেলে টাকা ফেরত নিতে উপজেলা পরিষদে গেলে শিখা রাণী রায় ও তার অফিসের কর্মচারীরা আফসার ও তার ভাই শাহিনকে বেধড়ক মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে ঘুষ চাওয়া সংক্রান্ত ৪৪ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আসে। অডিওতে  একজন পুরুষ আফসানা মিমির বাবা পরিচয়ে কবে তদন্ত  রিপোর্ট দেবেন জানতে চাইলে একজন নারীকণ্ঠে বলছেন, 'যতো তাড়াতাড়ি আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারবেন, ততো তাড়াতাড়ি রিপোর্ট পাবেন।' একই অডিওতে পুরুষ কণ্ঠে আবার বলা হয়, 'যে ১০ হাজার দিয়েছি, তা দিয়েই কাজটা করে দেন।' তখন নারী কণ্ঠে বলা হয়, 'দেখি অফিসে গিয়ে আগে কথা বলি।'

এ ব্যাপারে শিখা রাণী রায়ের মোবাইল ফোনে যোগায়োগ করা হলে শিখা রানীর স্বামী পরিচয়ে সঞ্চয় কুমার রায় ফোন ধরেন। তিনি বলেন তার স্ত্রী ঘুমাচ্ছেন, এখন তাকে ফোন দেয়া যাবে না। অডিও ক্লিপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন তাই এ প্রসঙ্গে তিনি এবং তার স্ত্রী কোনো মন্তব্য করবেন না। 

এ বিষয়ে রংপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কমিটি তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। শিখা রানী দোষী কি না  এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না।  তদন্ত রিপোর্ট পেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ  কি ব্যবস্থা নিবেন সেটা তারাই জানেন।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর