২৩ নভেম্বর, ২০২১ ১৪:০১

গণপরিবহন ভাড়ায় হাফ পাস বিতর্ক

সাম্প্রতিক সবচেয়ে বড় আন্দোলনগুলোর একটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবি। তখন ঢাকা অবরোধ করা শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবির ভিতরে অন্যতম ছিল, ‘শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’

জয়শ্রী ভাদুড়ী

গণপরিবহন ভাড়ায় হাফ পাস বিতর্ক

গণপরিবহনে হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন -ছবি : বাংলাদেশ প্রতিদিন

হাফ পাস, নাগরিক জীবনে শিক্ষার্থীদের রোজকার বিড়ম্বনার নাম। চলতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে বাস ভাড়া। শিক্ষার্থীরা বাস ভাড়া দিতে গেলে বাসের শ্রমিকদের সঙ্গে শুরু হচ্ছে বাগবিতন্ডা। নিয়মিত এই ঘটনার সমাধানে হাফ ভাড়া চালু করতে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

গতকাল হাফ ভাড়া নেওয়ার দাবিতে মোহাম্মদপুরে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির কারণে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। মোহাম্মদপুর গভর্নমেন্ট কলেজ, শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক্যাল কলেজ ও মোহাম্মদপুর আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল লতিফ বলেন, বাসে হাফ পাসের দাবিতে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। অবরোধের কারণে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করছি। রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। এর আগে গত শনিবার হাফ ভাড়া দেওয়ায় বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজের এক ছাত্রীকে বাসের চালক এবং হেলপার প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীসহ অন্য শিক্ষার্থীরা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিকানা পরিবহনের চালক ও তার সহকারীকে আটক করেছে র‌্যাব। গত রবিবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. রুবেল ও মেহেদী হাসান।
এর আগে রাইদা পরিবহনের একটি বাসে উঠে অর্ধেক ভাড়া দেওয়ায় হেনস্তার শিকার হন এক শিক্ষার্থী। তাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। গত ১৫ নভেম্বর দুপুরে রামপুরায় বিটিভি ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা রাইদা পরিবহনের ৫০টি গাড়ি রাস্তায় আটকে রাখে। পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়া, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আসন সংরক্ষণের আশ্বাসে আটকে দেওয়া অন্তত ৫০টি বাস ছাড়িয়ে নেয় রাজধানীর পোস্তগোলা থেকে দিয়াবাড়ী এলাকায় চলাচল করা রাইদা পরিবহন।

সাম্প্রতিক সবচেয়ে বড় আন্দোলনগুলোর একটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবি। তখন ঢাকা অবরোধ করা শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবির ভিতরে অন্যতম ছিল, ‘শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’ এরই মধ্যে চলতি মাসে তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়। বর্ধিত ভাড়ার মধ্যে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা দাবি জানাচ্ছে তাদের জন্য অর্ধেক ভাড়া চালুর। ঢাকার সায়েন্সল্যাব, ফার্মগেট, বাড্ডা, রামপুরা, শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন

জায়গায় এ দাবিতে বাস ভাঙচুর করেছে শিক্ষার্থীরা। তবুও নীরব সরকার। শিক্ষার্থীদের নয় দিন ধরে চলা ২০১৮ সালের আন্দোলনের পর প্রণয়ন হয় সড়ক পরিবহন আইন। কিন্তু সেখানেও নয় দফার একটি অর্ধেক ভাড়াসংক্রান্ত দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে। এরপর নভেম্বরের শুরুতে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাড়াবৃদ্ধির দাবিতে অঘোষিত ধর্মঘট পালন শুরু করেন বাস, ট্রাকসহ পণ্যবাহী যানবাহনের মালিকরা। বাস ভাড়া নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বৈঠক করে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে ৭ নভেম্বর। নতুন বর্ধিত ভাড়াও নির্ধারিত হয়। সেখানেও শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছে বিআরটিএ সূত্র।

যদিও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন কয়েকবার। ২০১৫ সালের অক্টোবরে বিআরটিসির কার্যালয়ে বাস ডিপো ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে এক বৈঠকে আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, ‘আমি এই মুহূর্ত থেকে নির্দেশ দিচ্ছি, রাজধানীতে চলাচলরত বিআরটিসির পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহনেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নেবে। আর না নিলে দায়ী পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু আইনগত ভিত্তি না থাকায় ওবায়দুল কাদেরের সে নির্দেশনা মানছেন না বেশির ভাগ গণপরিবহন মালিকরা।

সর্বশেষ খবর