শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৬

তাদের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন হয়েছে

——— শাহ্দীন মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

তাদের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন হয়েছে

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্দীন মালিক বলেছেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা সংরক্ষণের সংকীর্ণ স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। এর থেকে কোনো দলই মুক্ত নয়। তিনি বলেন, সামরিক শাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে আদি সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। বেসামরিক সরকারের সময়েও সংবিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে। বারবার সংবিধান সংশোধনের ফলে জনগণের ক্ষমতা খর্ব হয়েছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যকার ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সংবিধান চতুর্থ স্মারক বক্তৃতা ২০১৮ ও সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্মারক বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাঙলার পাঠশালা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শাহ্দীন মালিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে আদি সংবিধান প্রণীত হয়েছিল। পরে সেই সংবিধানে অনেক কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত হলেও তা ছিল আদি সংবিধান থেকে মৌলিক বিচ্যুতি। জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ ও আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, মূল সংবিধান থেকে আমরা সরে এসেছি। ১৭ বার এটি সংশোধন করা হয়েছে। কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করেছেন।

কেউ নির্বাচনের যোগ্য ছিল না, সংবিধান সংশোধন করে তাকে যোগ্য করা হয়েছে। কখনো সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। আজ একমাত্র উপায় হলো, রাষ্ট্রের যারা জনগণ তাদের কাছে যাওয়া, যদি রাষ্ট্রের মালিক জনগণের চেয়ে রাষ্ট্রের কোনো বিভাগ বা রাষ্ট্র প্রাধান্য পেয়ে থাকে, তবে সেই প্রাধান্য লোপ করে সংবিধানে জনসাধারণের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের জনগণকে বলা হয় প্রজাতন্ত্রের মালিক। আমরা যেটা করতে পারি, জনগণকে সচেতন করা, তারা যেন সচেতন হয়ে চাপ সৃষ্টি করে সংবিধানকে যতদূর সম্ভব মৌলিক ন্যায়ানুগ জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর