Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:২১

স্কুলগুলোকে ফেরত দিতেই হবে ভর্তিতে নেওয়া বাড়তি টাকা

আকতারুজ্জামান

স্কুলগুলোকে ফেরত দিতেই হবে ভর্তিতে নেওয়া বাড়তি টাকা

নীতিমালা ভঙ্গ করে শিক্ষার্থী ভর্তিতে বাড়তি টাকা আদায়কারী স্কুলগুলো রেহাই পাচ্ছে না। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে নেওয়া বাড়তি টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তদন্ত করে কয়েকটি স্কুলকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। জানা গেছে, শিগগিরই আরও কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করবেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থাও।

‘বেসরকারি স্কুল-স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক, নিম্নমাধ্যমিক ও সংযুক্ত প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা’ অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা আদায় করতে পারবে। এমপিওভুক্তবহির্ভূত প্রতিষ্ঠান মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফি বাবদ গ্রহণ করতে পারবে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ও ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। কিন্তু রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে ভর্তিতে বাড়তি অর্থ আদায় করেছে। জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত (নতুন) বাংলা ভার্সনে ভর্তি বাবদ ১৪ হাজার ৪০০, পুরাতন শিক্ষার্থী ভর্তি বাবদ ৮ হাজার ৪০০ ও ইংরেজি ভার্সনে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এসব অভিযোগের তদন্ত করলে সত্যতা মেলে। আদায়কৃত এই অতিরিক্ত অর্থ সম্প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানান, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ আরও বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ আদায় করেছে, এমন অভিযোগ রয়েছে তাদের কাছে। শিগগিরই এসব স্কুল পরিদর্শন করবেন বোর্ড কর্মকর্তারা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, ‘কোনো স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তিতে নীতিমালা লঙ্ঘন করে বাড়তি টাকা নিচ্ছে প্রমাণসহ এমন অভিযোগ শিক্ষা বোর্ডে দাখিল করলেই সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জানা গেছে, কাকলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভর্তি নীতিমালা লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি ফি আদায় করেছে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ৩৪ হাজার টাকা নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া পুনর্ভর্তির ক্ষেত্রে আদায় করেছে ১৫ হাজার ৪০০ টাকা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এই প্রতিষ্ঠানকেও আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়া খিলগাঁও আইডিয়াল স্কুলও ভর্তি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে। এ কারণে কেন প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতি বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে নাÑ এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে। খিলক্ষেতে অবস্থিত ‘রেসিডেনসিয়াল ল্যাবরেটরি কলেজ’ ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানান, কলেজটির পাঠদানের মেয়াদ ২০১২ সালের ৩০ জুন উত্তীর্ণ হলেও মেয়াদ বৃদ্ধি না করে অবৈধভাবে কলেজ পরিচালনা করে আসছিল। জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আদায়কৃত বাড়তি টাকা ফেরতও দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘যেসব স্কুল-কলেজ নীতিমালা লঙ্ঘন করে বাড়তি টাকা নিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপর এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ভর্তিতে বাড়তি টাকা নেওয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে বোর্ডে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন বোর্ডের চেয়ারম্যান।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর