Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:০৩

অসৎ সঙ্গই সর্বনাশ করল তূর্যর

রাজশাহীতে মদ পানে মৃত্যু

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

অসৎ সঙ্গই সর্বনাশ করল তূর্যর

তূর্য রায়। ২০১৪ সালে নীলফামারীর ডোমার বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পেয়ে মাধ্যমিক পাস করেন। ২০১৬ সালে রংপুর সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেছিলেন। ওই বছরই ভর্তি হয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই তুখোড় সেই মেধাবী ছাত্রটির জীবন বদলে যায়। অসৎ সঙ্গে পড়ে মদের নেশায় পেয়ে বসে তাকে। যে ছাত্রটি স্কুল-কলেজে বই নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, তিনিই রাবিতে এসে আড্ডা আর হইচইয়ে সময় কাটাতে শুরু করেন। সেই অসৎ সঙ্গে পড়ে তিনি এখন চলে গেছেন না ফেরার দেশে। অতিরিক্ত  মদ পান করে মারা গেছেন এই মেধাবী ছাত্র। একই ঘটনায় মুহতাসিম নামে আরও এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তূর্য রায়ের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলা শহরে। পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের ছোট রাউতা চাকধাপাড়া গ্রামের পুর্ণেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে তিনি। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তূর্য বড়। ছোট বোন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা ছিলেন ওষুধ ব্যবসায়ী। এখন বাড়িতে জমাজমি দেখাশোনা করেন। মা কাজল রায় মাহীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তূর্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রাজশাহী নগরের উপরভদ্রা এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। অতিরিক্ত মদ পানের পর রবিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই দিন সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাবির দুই ছাত্র। একই ঘটনায় রুয়েটের রাকিব হাসান চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বেঁচে গেছেন অল্পের জন্য। মারা যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন বিভাগের মুহতাসিম খুলনার দৌলতপুরে উপজেলার কবির আলমের ছেলে। তূর্য ও মুহতাসিম দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী। তারা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। ছাত্রদের দাবি আদায়ের নানা আন্দোলনে তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তাদের এভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের অনেকেই বিব্রত বোধ করছেন। যদিও তারা এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রফ্রন্টের এক কর্মী জানান, শনিবার ওই ছাত্ররা একসঙ্গে মদ খাওয়ার পর ছাত্রফ্রন্টের এক নেতাকে ফোন করে জানান তারা অসুস্থ বোধ করছেন। পরে তাদের মেসে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলে কিছুটা সুস্থ বোধ করেন তারা। গভীর রাতে তারা আবারও অসুস্থ বোধ করেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলে ভোরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোরে একজন মারা যান। অন্যজন মারা যান সকাল ৮টার দিকে। একই ঘটনায় অসুস্থ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাকিব হাসান সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ওই ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন ইফতেখায়ের হোসেন ওরফে সুমন (৩৭), মো. লুৎফর রহমান (৩৮) ও জনি শেখ ওরফে শুভ (২৪)। এর আগে নগরীর জিরো পয়েন্টে এলাকার স্টার মেডিকেল হল ওষুধের দোকানের মালিকসহ আরও দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

 


আপনার মন্তব্য