শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:১০

শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্ব আর সম্মেলন প্রস্তুতি চলছে সমানে

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্ব আর সম্মেলন প্রস্তুতি চলছে সমানে

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যকার দ্বন্দ্ব আর ৪ ডিসেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সমানে চলছে। গত শুক্রবার রাজশাহীর নেতাদের ঢাকায় নিয়ে এসে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় নেতারা। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের বিরোধ দীর্ঘদিনের। তা মেটাতে ঢাকায় এ বৈঠক। দ্বন্দ্ব না মিটলেও কেন্দ্র বলে দিয়েছে, ৪ ডিসেম্বর হবে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ বিষয়ে জেলা নেতাদের সহযোগিতা করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। ঢাকায় ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ নাসিম। সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ওমর ফারুক চৌধুরী ও আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা দ্বন্দ্ব সম্প্রতি প্রকাশ্যে রূপ নেয়। দলীয় একটি সভায় ওমর ফারুক চৌধুরীকে ‘রাজাকারের সন্তান’ আখ্যা দিয়ে বক্তৃতা করেন আসাদ। এরপর ১৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় সব জেলার সভাপতি-সম্পাদক বক্তব্য দিলেও কোন্দলের কারণে ফারুক ও আসাদকে বক্তৃতা করতে দেওয়া হয়নি। সেদিন জেলার এ দুই নেতাকে কেন্দ্রে তলব করে যান কেন্দ্রীয় নেতারা। সূত্র জানান, ঢাকায় শুক্রবারের সভায় দলীয় নানা বিতর্কিত কর্মকা-ের জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা রাজশাহীর সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীকে ভর্ৎসনা করেন। আর সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে বলেন, প্রকাশ্যে ‘রাজাকারের সন্তান’ বলাটা ঠিক হয়নি। এটা দলীয় ফোরামে উত্থাপন করা যেত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদ বলেছেন, তিনি যে কথা বলেছেন তার সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ আছে। সম্প্রতি বিএনপি-ফ্রীডম পার্টি হয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী আওয়ামী লীগে এসে এমপি হয়েছেন এমন খবর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীতে তোলপাড় সৃষ্টি হলে জেলার ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ওমর ফারুক চৌধুরীর বাবা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।

 

সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘কয়েক দিন আগে আমরা প্রতিনিধি সম্মেলনে গিয়েছিলাম। তার পরও পত্রপত্রিকা রাজশাহীর খারাপ খবরে ভরে গেল। এটি আমাদের জন্য দুঃখজনক।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলন সামনে রেখে সব তিক্ততার অবসান ঘটবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা হবে সুস্থ। অসুস্থ প্রতিযোগিতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর