শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:৪৪

বৈষম্য দূর করে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

মোস্তফা কাজল

বৈষম্য দূর করে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

উন্নয়নবৈষম্য দূর করে  মডেল ওয়ার্ড গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

এ ওয়ার্ডে এলাকাভিত্তিক উন্নয়নমূলক কাজ হলেও কিছু সমস্যার সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পর্যাপ্ত স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। বেশ কিছু এলাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধ থাকে। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় কিছু সড়ক। ওয়ার্ডে এখনো পরিলক্ষিত হয় গ্রামের প্রতিচ্ছবি। কিছু সড়ক ভাঙাচোরা ও কাঁচা। নেই কোনো সড়ক বাতি। সন্ধ্যা হতেই চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব প্রকট। এসব সমস্যার সমাধান করতে চান ডিএনসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে প্রতিটি এলাকায় শতভাগ উন্নয়ন করবেন। এ ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন- বর্তমান কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সদস্য মুজিব সারোয়ার মাসুম, মহানগরের অপর সদস্য এম এ সেলিম খান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. আজম খান। বিএনপি  থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম ও ঢাকা জেলার সেরা করদাতা ব্যবসায়ী মো. লুৎফর রহমান। বাগবাড়ী, আনন্দনগর, বাজারপাড়া, হরিরামপুর, বর্ধনবাড়ী, জাহানাবদ, গোলারটেক, পালপাড়া ও দিয়াবাড়ী নিয়ে ডিএনসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে জনসংখ্যা তিন লাখ হলেও ভোটার ৯০ হাজার।

এ ওয়ার্ডের কিছু সড়ক বেহাল। বাগবাড়ী, কোর্টবাড়ী ও হরিরামপুর এলাকার এবড়োখেবড়ো সড়ক বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কার হয়নি। মিরপুর বড় বাজার থেকে আনন্দনগর পর্যন্ত সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিপাকে রয়েছেন। স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই আনন্দনগর, ঋষিপাড়া ও হরিরামপুরের আশপাশ এলাকার জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। এ এলাকাটি  গ্রাম্য আদলে গড়ে উঠেছে। আনন্দনগর মসজিদ ও নামাপাড়া-সংলগ্ন এলাকায় দেড় শতাধিক পরিবার বর্ষাকালে পানিবন্দী থাকেন। ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকায় সড়কবাতি নেই। সন্ধ্যার পর চারদিকে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। চুরি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এখানে কয়েকটি বস্তি রয়েছে। বস্তির বাসিন্দারা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বস্তিকে কেন্দ্র করে মাদকের বিস্তার ঘটেছে আনাচকানাচে। এখানকার বাসিন্দারা মনে করেন, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও পার্ক, পাবলিক লাইব্রেরিসহ অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্র স্থাপন করা হলে ওয়ার্ডবাসী উপকৃত হবেন। বর্তমান কাউন্সিলর মুজিব সারোয়ার মাসুম বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নে কাজ করছি। ৭৫ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসন করেছি। অবকাঠামোয় উন্নয়ন করে আমূল পরিবর্তন করেছি। ডিএনসিসির কর্মীর সংখ্যা নগণ্য থাকায় সড়কবাতি লাগানো যায়নি। এ জন্য সিটি করপোরেশনকেও কয়েকবার বলা হয়েছে।’ মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এম এ সেলিম খান বলেন, ‘নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  মাদকের বিরুদ্ধে যে চিরুনি অভিযান শুরু করেছেন তা অব্যাহত রাখব। প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে মাদক নির্মূল করব। এ ওয়ার্ডে অনেক সরকারি জায়গা রয়েছে। ভূমিহীন ও অসহায়দের এসব জায়গায় পুনর্বাসন করব। সড়কবাতি শতভাগ সচল রাখব। একটি ডিজিটাল লাইব্রেরি ও একটি পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড উপহার দেব।’ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজম খান বলেন, ‘যদি মনোনয়ন পাই তাহলে নির্বাচন করব। নির্বাচিত হলে উন্নয়নের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব। সন্ত্রাস, অবৈধ দখল, কিশোর গ্যাং, যৌন হয়রানি, দুর্নীতি ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করব। গ্রাম্য বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলব।’ মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি ঢাকা জেলার একজন সেরা করদাতা। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাব।’ বিএনপির প্রার্থী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দলের মনোনয়ন পেলে ওয়ার্ডের প্রতিটি অলিগলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, সিসি ক্যামেরা ও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করব। এ ওয়ার্ডকে ডিএনসিসির প্রথম সারির মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তর করব।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর
close