শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:০৯

চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্যের প্রমাণ মিলল হাতেনাতে

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্যের প্রমাণ মিলল হাতেনাতে

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ। মেডিসিন বিভাগের ২১২ নম্বর কক্ষের বাইরে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইন। চিকিৎসক ডা. সুমন রায় তখনো অনুপস্থিত। হাসপাতালের পরিচালকের উপস্থিতিতে ওই কক্ষ থেকে উদ্ধার হয় বেসরকারি ক্লিনিক মাক্স হেলথ্ কেয়ারের প্যাড, সন্ধানী ক্লিনিক, মা হেলথ কেয়ার ও সিটি ইমেজিং সেন্টারের প্যাথলজির স্লিপ। অভিযোগ রয়েছে, ডা. সুমন রায় এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে কমিশন বানিজ্যে জড়িত।

সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও টাকার বিনিময়ে সাধারণ রোগীদের ওইসব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। 

একইসময় বহির্বিভাগের (মেডিসিন) ২১০ নম্বর কক্ষে আরেক চিকিৎসক ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের কক্ষ থেকে উদ্ধার হয় সায়েন্স ভিউ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের অসংখ্য প্যাথলজি স্লিপ। চক্ষু বিভাগের ল্যাব থেকে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে  বেসরকারি ক্লিনিক গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গতকাল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে দুই ঘণ্টার অভিযানে এসব চিত্র ধরা পড়ে। দুদক খুলনা সমন্বয় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাওন মিয়া জানান, নিয়ন্ত্রণহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে কমিশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা। হাসপাতালের অভ্যন্তরে ভ্রাম্যমাণ এক্স-রে, ইসিজি মেশিন নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল ও ওষুধের দোকানের প্রতিনিধিদের সক্রিয় দেখা গেছে। অধিক টাকার বিনিময়ে বাইরের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদের। গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীর স্বামী মাছুম উদ্দিন মোল্লা জানান, তার স্ত্রীকে স্লিপে লিখে ৮-১০টি টেস্ট ফাতেমা হাসপাতাল থেকে করাতে বলেন ওই বিভাগের চিকিৎসক। স্লিপের নিচে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে তারা টেস্টের জন্য ৪ হাজার টাকা দাবি করেন।

পরে খোঁজখবর নিয়ে তিনি এই সরকারি হাসপাতাল থেকে ৫০০ টাকায় ওই পরীক্ষা করিয়েছেন। দুদকের অভিযানের সময় ফাতেমা হাসপাতাল ও সন্ধানী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতে দেখে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, অভিযুক্তদের বিষয়ে সভা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আগে থেকে এ বিষয়ে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কমিশন বাণিজ্যে জড়িত চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। অভিযানকালে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক নীলকমল পাল উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য