শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৩

কালের কণ্ঠ-কনকর্ড গোলটেবিল বৈঠক

পরিবেশবান্ধব ব্লকে যাওয়ার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্মাণ খাতকে পরিবেশবান্ধব করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পোড়া ইটের বদলে ব্লক ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবিদ, গবেষক ও বেসরকারি খাতের অংশীজনরা। এজন্য দ্রুত সব ইটভাটা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গতকাল রাজধানীর বারিধারায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড মিলনায়তনে কালের কণ্ঠ ও কনকর্ড গ্রুপ আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রী’ শিরোনামের গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশবিদ ও গবেষকরা বলেন, ইটভাটা শুধু বাতাসই দূষণ করছে না; মাটির উর্বরতা ধ্বংস করে দিচ্ছে; ধানের ফলন কমিয়ে দিচ্ছে; শাকসবজি,  ফলমূল কমে যাচ্ছে; সর্বোপরি মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার চরম ক্ষতি করছে। সনাতন ইটভাটার মাটির জোগান দিতে প্রতি বছর এক শতাংশ হারে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে এরই মধ্যে ইটভাটা বন্ধ করে ব্লকের ব্যবহার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও যত দ্রুত সম্ভব ইটভাটা বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব ব্লকের দিকে যাওয়া উচিত। তারা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এসব বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এ-ও বলেছেন, রাতারাতি সারা দেশ থেকে আট হাজার ইটভাটা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া দেশে এখনো ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লকের ব্যবহার ততটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। তাই এটাকে জনপ্রিয় করতে প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ব্লকের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন। তিনি ২০২৪ সালের মধ্যে সরকারি কাজে ইটের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে ব্লক ব্যবহার নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইটভাটার মালিকদের মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরি থেকে সরে এসে ব্লক তৈরির আহ্বান জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের কম সুদে ঋণসহ সব সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গোলটেবিল বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল, কনকর্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য মেজর (অব.) প্রকৌশলী শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি মামনুন মুর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, রিহ্যাবের পরিচালক শাহাদাত হোসেন, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক জিয়াউল হক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর আহমেদ, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. নুরুজ্জামান মুন্না, অক্সফামের আরবান ম্যানেজার আনিসুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মীর তানভীর হোসাইন, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান এবং বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আসাদুর রহমান খান।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর