শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০১:৪৪

এসএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে দিনভর বিক্ষোভ

বোর্ড চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে স্বস্তি

আকতারুজ্জামান

এসএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে দিনভর বিক্ষোভ

শিক্ষকের প্রতারণায় এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পেয়ে গতকাল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে দিনভর বিক্ষোভ করেছে শতাধিক শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের জন্য টাকা দিয়েও তারা প্রবেশপত্র পায়নি। আজ সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে পরীক্ষা।

গাজীপুরের খোরশেদনগর পাবলিক স্কুলের ১১ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এ প্রতিবেদককে জানায়, তাদের স্কুলের অনুমোদন না থাকায় প্রধান শিক্ষক শাহজাহান কবীর যাদবপুর বিএম উচ্চবিদ্যালয়ের মাধ্যমে ফরম পূরণের চেষ্টা করেন। এ জন্য প্রতি শিক্ষার্থীর কাছে এ বাবদ নেওয়া হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। কিন্তু যাদবপুরে প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের ফি বোর্ডে জমা দেয়নি। তাই তারা পায়নি পরীক্ষার প্রবেশপত্রও। বোর্ড সূত্র জানায়, শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন না থাকা বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনুমোদন না থাকায় কিছু অসাধু প্রধান শিক্ষক অনুমোদন থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফরম পূরণের চেষ্টা করে থাকে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এমন শতাধিক শিক্ষার্থী গতকাল সকাল থেকে ভিড় জমায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। তারা দিনভর বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করে। পরে বিকালে বোর্ড কর্মকর্তারা বেরিয়ে যেতে উদ্যত হলে প্রবেশপত্র না পাওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রবেশপত্র না পেয়ে এ সময় কাঁদতে দেখা যায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বলেন, এই শিক্ষার্থীরা অনুমোদনহীন বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু বোর্ডের অনুমোদন না থাকায় সেসব অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা দিতে পারছে না। চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে প্রধান শিক্ষক অনুমোদিত আরেক প্রতিষ্ঠান থেকে ফরম পূরণের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও এসব শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের টাকা বোর্ডে জমা দেননি। তাই প্রবেশপত্র পাননি  এই পরীক্ষার্থীরা। পরে মানবিক বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকের প্রবেশপত্র তৈরি করে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করলে বর্তমানে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না। টেস্টে ফেল করে কিছু শিক্ষার্থী সেসব প্রতিষ্ঠানে থেকে ফরম পূরণ করতে না পেরে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ফরম পূরণের চেষ্টা করে তারা কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে। এমন বেশকিছু শিক্ষার্থীকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরম ফিলাপের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা নিয়েও বোর্ডে জমা না দেওয়া যাদবপুর বিএম উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আলী হায়দারকে এসএসসি পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর