শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৩

জেনারেল হাসপাতালে গ্যাস বিচ্ছিন্ন ‘গ্যাঁড়াকলে’ রোগীরা

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

জেনারেল হাসপাতালে গ্যাস বিচ্ছিন্ন ‘গ্যাঁড়াকলে’ রোগীরা

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) বকেয়া বিলের কারণে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি। জেনারেল হাসপাতাল কেজিডিসিএলকে ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখের স্বাক্ষরযুক্ত অগ্রিম একটি চেক পাঠায়। কিন্তু অগ্রিম চেক গ্রহণের নিয়ম নেই জানিয়ে পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেয়নি কেজিডিসিএল। ফলে গরিব ও সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবায় অন্যতম কেন্দ্র জেনারেল হাসপাতাল গত সাত দিন ধরে গ্যাস বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের লাকড়ির চুলায় রান্না করে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। রোগীদের সময়মতো খাবার পরিবেশনে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে এর খেসারত দিতে হচ্ছে রোগীদের।জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষের কাছে ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখের একটি অগ্রিম চেক পাঠায়। কিন্তু অগ্রিম চেক গ্রহণের সুযোগ না থাকায় গ্যাস সংযোগ দেয়নি কেডিজিসিএল।

কেজিডিসিএল বলছে, অগ্রিম চেক গ্রহণ করার নিয়ম নেই। কিন্তু জেনারেল হাসপাতাল বলছে, নগদে অর্থ পরিশোধের সুযোগ নেই। ফলে নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন রোগীরা।

কেজিডিসিএলের বিপণন (উত্তর-১) বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, ‘প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অগ্রিম চেক দিয়েছে। কিন্তু আমাদের চেক গ্রহণের সুযোগ নেই।’

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার দাশ বলেন, ‘গ্যাস সংযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি চেক দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারেন্স পেলে তাদের একাউন্টে টাকা জমা হবে। তাছাড়া অগ্রিম চেকে আমাদের কোনো হাত নেই। চেক ইস্যু করে বিভাগীয় হিসাব অফিস। তবে আমাদের নগদ টাকা পরিশোধেরও সুযোগ নেই।’

জানা যায়, চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন গড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ জন রোগী ভর্তি থাকে এ হাসপাতালে। ভর্তি থাকা রোগীদের অধিকাংশই গরিব, অসহায় ও তৃণমূলের। অথচ মাত্র ছয় লাখ টাকা গ্যাস বিল বকেয়া থাকার কারণে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে কেজিডিসিএল। ফলে আন্তঃবিভাগে ভর্তি থাকা প্রায় ১৮০ জন রোগীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে লাকড়ির চুলায়। আকস্মিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় রোগীদের দুই বেলার খাবার সরবরাহ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর