শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০৮

নগরে নগরে বাড়ছে প্রস্তুতি

পিসিআর মেশিন এসেছে বরিশাল, সিলেটে ♦ রাজশাহীতে টেকনিক্যাল টিম

প্রতিদিন ডেস্ক

নগরে নগরে বাড়ছে প্রস্তুতি

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে নগরে নগরে বাড়ছে প্রতিরোধ প্রস্তুতি। ভাইরাস পরীক্ষার পলিমারি চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন এসেছে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল, ও সিলেট মেডিকেলে। অন্যদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। করোনাভাইরাস পরীক্ষা কাজের জন্য ৩০ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

পিসিআর মেশিন এসেছে বরিশালে : বরিশাল জানান, করোনাভাইরাস পরীক্ষার পলিমারি চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন এসেছে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে। মেশিনটি স্থাপন করা হবে মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগে। স্থাপনের পর আগামী সপ্তাহে শুরু হবে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, মেশিনটি স্থাপন করা হয়ে গেলে বরিশালে করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের উপাদান ঢাকায় আইইডিসিআরকে পাঠাতে হবে না। স্থানীয়ভাবেই করোনা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে চিকিৎসকদেরও চিকিৎসাসেবা দিতে সুবিধা হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সরকারি দীর্ঘ জোরালো উদ্যোগের পর গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা পরীক্ষার পিসিআর মেশিন পাঠিয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) আইইডিসিআর থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে মেশিনটি মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগে স্থাপনের কাজ শুরু করবে। স্থাপন শেষে বিসিএল-২ লেভেল ঠিক করবেন বিশেষজ্ঞরা। এরপর শুরু হবে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা। এদিকে গতকাল বিকাল পর্যন্ত শেরেবাংলা মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে করোনা সন্দেহে পাঁচজন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক। গতকাল বিকাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের প্রবাসফেরত ২ হাজার ৮২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কোয়ারেন্টাইন শেষে বিদেশফেরত ১ হাজার ৫১৪ জনকে মুক্ত করা হয়েছে।

রাজশাহীতে ৩০ সদস্যের টেকনিক্যাল টিম :  রাজশাহী জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে ৩০ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কাল (বুধবার) ল্যাবে ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন রামেকের অধ্যক্ষ নওশাদ আলী। তিনি বলেন, এ ল্যাবে প্রতিদিন ছয় থেকে সাতজনের পরীক্ষা করা যাবে। আর পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে লাগবে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা। ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাবেরা গুলনেহারকে ল্যাবের প্রধান করে চিকিৎসক, নার্সসহ ৩০ সদস্যের টেকনিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। অনলাইনে তাদের প্রশিক্ষণ চলছে। এ ছাড়া ল্যাব স্থাপনের জন্য যারা আসছেন তারা হাতে কলমে এদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

সিলেটে পৌঁছেছে করোনা পরীক্ষার মেশিন : নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট জানান,  অবশেষে করোনাভাইরাস পরীক্ষার মেশিন ও সরঞ্জামাদি সিলেট এসেছে। ঢাকা থেকে গতকাল সকালে করোনাভাইরাস পরীক্ষার পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন ওসমানী মেডিকেলে এসে পৌঁছয়। মেডিকেল কলেজেই স্থাপন করা হচ্ছে পরীক্ষার ল্যাব। তবে পরীক্ষা শুরু করতে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুছুর রহমান। তিনি জানান, ল্যাব স্থাপনের পর ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানদের পরীক্ষার পদ্ধতি শিখিয়ে দেওয়া হবে। সবমিলিয়ে দুই-তিন দিন পরই সিলেটে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু হবে। ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হলে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল থেকে সন্দেহভাজনদের নমুনা এনে এখানে পরীক্ষা করতে পারব। এদিকে, সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন চিকিৎসাধীন তিন রোগীর নমুনা ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। রবিবার তাদের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। আজ তাদের রিপোর্ট পাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর