শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০৪

ভালো নেই খেটে খাওয়া মানুষ

চট্টগ্রামে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় তবু হচ্ছে না আয়

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় তবু হচ্ছে না আয়

রিকশাচালক জমির উদ্দিন। দুই সন্তানের জনক। দিনভর রিকশা চালিয়ে যা আয় করতেন তা দিয়ে জোড়াতালির সংসার। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে দৈনিক আয়ে পড়েছে ভাটার টান। সড়কে যাত্রী নেই, তাই রিকশায় ভাড়াও নেই। ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নামলেও মিলছে না যাত্রী। ফলে সংসারে সঙ্গী হয়েছে অভাব। গতকাল দুপুরে আন্দরকিল্লা মোড়ে দুঃখভরা কণ্ঠে বললেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে কীভাবে সংসার চলছে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। কত দিন এভাবে চলতে হবে তাও জানি না। আগে দৈনিক ৮০০ টাকা আয় করতে পারলেও এখন আয় সর্বোচ্চ ২০০ টাকা।’ সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নগরের অধিকাংশ মোড়েই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে রিকশাগুলো। একজন মানুষ দেখলে তিনটি রিকশা একসঙ্গে হুমড়ি খেয়ে এগিয়ে আসছে, ‘কই যাবেন ভাই, ওঠেন।’ কে কত টাকা দিবে, কোথায় যাবেন তা জিজ্ঞাসা করছেন না। অবস্থা এমন হয়েছে, যাত্রী যা-ই দেন তা দিয়েও যেতে প্রস্তুত রিকশাচালক। নগরের কাজির দেউড়ি মোড়, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, আন্দরকিল্লা, চেরাগি, দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়সহ অসংখ্য মোড়-জংশনে রিকশাচালকরা সারিবদ্ধ হয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকেন।  করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে ঘরে থাকার নির্দেশনা আসার পর রিকশাচালক, খেটে খাওয়া দিনমজুর, শ্রমিক, নিম্ন আয়ের মানুষদের প্রাণ এখন ওষ্ঠাগত। তাদের জীবনাচারে এখন ত্রাহি অবস্থা। দিনে এনে দিনে খায় এমন মানুষদের এখন নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে সরবরাহ করা খাবার ও ত্রাণসমাগ্রী থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাছাড়া ত্রাণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। আর বস্তিবাসী, তৃণমূলের বাসিন্দা, পথশিশু, পাহাড়সহ বিভিন্নভাবে বসবাস করা বাসিন্দারাও ত্রাণের বাইরে থাকে। বাটালি হিলের পাদদেশে ভাড়ায় থাকা দিনমজুর কফিল উদ্দিন বলেন, ‘দুই হাজার টাকা ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকি। গত চার দিন ধরে বাসায় বসে আছি। জমা যা ছিল তা সব শেষ। কী করব বুঝতে পারছি না। কোনো ত্রাণও পাইনি এখনো।’ জানা যায়, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) চট্টগ্রাম নগরে ২২টি ট্রাকে করে সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক কম দামে পণ্য বিক্রি করছে। সাধারণ ছুটিতে লোকজন এসব পণ্য টিসিবির পরিবেশকদের ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে কিনতে পারছেন।

টিসিবির পণ্যের মধ্যে আছে পিয়াজ, তেল, চিনি ও ডাল। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি করা হচ্ছে ৫০ টাকা, মসুর ডাল ৫০ টাকা, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০ টাকা ও পিয়াজ প্রতি কেজি ৩৫ টাকা। টিসিবি চট্টগ্রামের পরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নগরে ২২টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে কম দামে। প্রতি ট্রাকে ৫০০ কেজি পিয়াজ, ৩০০ কেজি ডাল, ৫০০ কেজি চিনি দেওয়া হচ্ছে। বাজার থেকে কম মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর