শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৫

পাপুলের আসনে প্রার্থী কারা

লক্ষীপুর-২ উপনির্বাচন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

পাপুলের আসনে প্রার্থী কারা

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) সংসদীয় আসনে এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের পদ হারানোর পর উপনির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এ আসনটি জোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিলেও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অনেকে লবিং করছেন কেন্দ্রেও। এদিকে এ আসন ছাড়তে রাজি নয় বিএনপি। সুষ্ঠু ভোট হলে নিজেদের জয় নিশ্চিতে আশাবাদী তারা। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি জোট ইস্যুতে হাল ছাড়তে নারাজ। জানা যায়, হঠাৎ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের রাজনীতিতে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসেন’ আলোচিত কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির মো. নোমানকে টাকার বিনিময়ে সরিয়ে দিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন পাপুল। সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে শত কোটি টাকার উন্নয়নের ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের মন জয় করেন তখন। নির্বাচনের পর তার আর খোঁজ পাননি তারা। তার গ্রামের বাড়িতে ঝুলছে তালা। বর্তমানে অর্থ ও মানব পাচার এবং ঘুষ লেনদেনে চার বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কুয়েতের কারাগারে বন্দী তিনি। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তার সংসদীয় পদ বাতিল করে সংসদ সচিবালয়। এদিকে আগামী ২ মার্চের পরে ওই আসনে তফসিল আর মার্চে উপনির্বাচনের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের আংশিক) আসনে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন এখানকার সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরগরম হয়ে ওঠে রায়পুরের রাজনীতি। মহাজোটের ডজনখানেক প্রার্থী তাদের কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে ফেসবুকে সরব রয়েছেন এখন। আলোচনায় রয়েছেন সাবেক এমপি আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, ঢাকা কলেজের সাবেক সভাপতি এ এফ জসীম উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন নয়ন, ডা. এহসানুল কবির জগলুল, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শামছুল ইসলাম পাটোয়ারী, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ আলী খোকন। এদিকে বিএনপি থেকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন হাওলাদার ও কর্নেল মজিদের নাম শোনা যাচ্ছে। জাতীয় পার্টি থেকে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এম আর মাসুদ ও শেখ মোহাম্মদ ফায়জুল্লাহ শিপন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। এদিকে এই প্রার্থীরা কেন্দ্রেও লবিং-তদবির শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল ফয়েজ ভূঁইয়া বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই পাপুলের বিষয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। সেদিন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আজ হয়তো বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা হতো।’

আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসীম উদ্দিন বলেন, ‘পাপুলদের মতো লোক এমপি হন এটি রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা। এ অপরাজনীতি থেকে বের হয়ে স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চা করতে হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এখানকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন করার আগ্রহ রয়েছে। সুযোগ পেলে তা করে দেখাতে চাই।’

রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট মনির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আসন ছেড়ে দেবে না বিএনপি। এ আসনে বারবার বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।’ এখনো সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপির জয় নিশ্চিত উল্লেখ করে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিঙ্কু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, মহাজোট প্রার্থী নোমান মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় পাপুলের আবির্ভাব ঘটেছে। আগামীতে আওয়ামী লীগের মধ্য থেকে তৃণমূলের রাজনীতিতে সক্রিয় এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জেলার এ দুই শীর্ষস্থানীয় নেতার।

মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক এম আর মাসুদ বলেন, কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় দল নেবে না। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাই জাতীয় পার্টিকে নিয়ে নতুনভাবে তারা আশাবাদী বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ উল্লাহ এমপি নির্বাচিত হন। পরের বছর ১৯৭৪ সালে উপনির্বাচনে এমপি হন একই দলের ড. আউয়াল। এরপর জিয়াউর রহমানের আমলে বিএনপি গঠনের পর আসনটি চলে যায় তাদের দখলে। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচিত হন খোরশেদ আলম চৌধুরী। পরে জাতীয় পার্টির আমলে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে তিনি লাঙল নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোহাম্মদ উল্লাহ এবং ১৯৯৬ সালে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জয়ী হন। বিএনপি নেত্রী আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের হারুনুুর রশিদ। এর পরের দুই নির্বাচনে ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নোমান ও ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র হিসেবে এমপি হন কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর