শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ মে, ২০২১ ২২:৪৭

রাইড শেয়ার চালকদের মধ্যে আতঙ্ক

চালককে খুন করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

রাইড শেয়ার চালকদের মধ্যে আতঙ্ক
Google News

তাদের টার্গেটে থাকতেন রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের মোটরসাইকেল চালকরা। রাত ৯টার পর চালকের সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে ভাড়া ঠিক করতেন তারা। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে অ্যাপসের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করতেন না। গন্তব্যে যাওয়ার পথে নির্জন স্থানে চালককে থামতে বলা হতো। থামার পরই সেখানে ওত পেতে থাকা সহযোগীরা এসে পাথর ও হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালিয়ে চালককে খুন করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যেত দুষ্কৃতকারীরা। সম্প্রতি এক উবারচালক হত্যার ঘটনায় চারজন গ্রেফতারের পর পুলিশের তদন্তে বের হয়ে এসেছে এ রকম চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ ঘটনার পর থেকে সিলেটে রাইড শেয়ার চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে সন্ধ্যার পর শহরের বাইরে যাত্রী পরিবহন করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। পুলিশ জানায়, ১১ মে সন্ধ্যার পর মহানগরের চালিবন্দরের বাসিন্দা রাইড শেয়ার চালক রেদওয়ান রশিদ চৌধুরী সৌরভ বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। এরপর তার আর খোঁজ মেলেনি। এ ঘটনায় ১২ মে তার স্বজনরা কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ ১৩ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোগলাবাজার থানার সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের গফুরের বাঁধ এলাকার যাত্রীছাউনির পাশে একটি ডোবার কচুরিপানার ভিতর থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় সৌরভের লাশ উদ্ধার করে। হত্যার ঘটনাটি তদন্তে নেমে পুলিশ এ খুনি চক্রের রোমহর্ষক তথ্য পায়। সৌরভ হত্যার ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের কদমতলী থেকে মুজিবুর রহমান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে মোগলবাজার থানার ছিছরাকন্দি গ্রামের লয়লু মিয়ার ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে সে রেদওয়ানকে হত্যা ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী গ্রেফতার করা হয় ওই চক্রের আরও তিন সদস্যকে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মুজিব জানায়, তার সহযোগী এনাম আহমদ হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে গফুরের বাঁধ এলাকায় যাওয়ার কথা বলে সৌরভের মোটরসাইকেলে ওঠে। গফুরের বাঁধ যাত্রীছাউনির কাছে যাওয়ার পর মোটরসাইকেল থামিয়ে সৌরভের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে এনাম।

পরে তাকে খুন করে কচুরিপানার ভিতর লাশ ফেলে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় সে। মুজিবের তথ্যানুযায়ী গোলাপগঞ্জের আছিরখাল বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয় এনামকে। তার বাড়ি মোগলাবাজারের ধোপাকান্দি গ্রামে। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার খলাগ্রাম থেকে জুয়েলুর রহমান নামে এক যুবককে গ্রেফতার ও তার হেফাজত থেকে সৌরভের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, এর আগে ৯ এপ্রিল একই স্থান থেকে গোলাম কিবরিয়া রাজু নামে আরেক রাইড শেয়ার চালককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মৃত ভেবে ওই চক্রই তাকে গফুরের বাঁধ যাত্রীছাউনির পাশে ফেলে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়েছিল। সৌরভের মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর রাজনগরের ধুলিজুরা গ্রামের রায়হান মিয়ার হেফাজত থেকে রাজুর মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রায়হানকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর এখনো জ্ঞান ফেরেনি রাজুর। রাজু সিলেট মহানগরের উত্তর বালুচর আল ইসলাহ আবাসিক এলাকার মৃত আকদ্দছ আলীর ছেলে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের জানান, রাইড শেয়ার চালকদের খুন করে মোটরসাইকেল ছিনতাই ছিল ওই চক্রের পেশা। এ রকম আর কোনো চক্র সিলেটে আছে কি না এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।

এই বিভাগের আরও খবর