শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জুন, ২০২১ ২৩:৫৭

রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে
Google News

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে আমরা সব সময়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছি। সমস্যার মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানের কথা বলেছি। ’ নিউইয়র্কে ১৫ জুন অনুষ্ঠিত ‘মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি : সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের অবস্থা’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ, কানাডা, সৌদি আরব ও তুরস্ক স্থায়ী মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ সম্মিলিতভাবে এই ইভেন্টটির আয়োজন করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে মূল বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘের চলতি সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির তার সাম্প্রতিক কক্সবাজার সফরের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন। আলোচনার সূচনা করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

ইভেন্টটির সমৃদ্ধ প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতিসংঘে কানাডার স্থায়ী প্রতিনিধি বব রে, তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি ফেরিদুন হাদি সিনির লইয়োগ্লু, জাতিসংঘের জেনোসাইড প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যালিস ওয়াইরিমু নেডিরিটু, মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার টম অ্যানড্রিউজ, জাতিসংঘে সৌদি আরবের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এবং রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট ও উইমেন পিস নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক ওয়াই ওয়াই নু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল সেন্টার ফর রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্টের নির্বাহী পরিচালক ড. সায়মন অ্যাডাম।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্ত ও মানবীয় উদারতার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘এই নীতি-আদর্শ ও উদারতাই আমাদের সহিংসতার শিকার বাস্তচ্যুত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দানে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমাদের সম্পদ ও স্থানের তীব্র সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।’

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন আবাসন সুবিধার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য সৃষ্ট নতুন এই আবাসন ব্যবস্থা জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সহযোগীরা যথাযথভাবে পরিদর্শন এবং মূল্যায়ন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এখানে তারা তাদের রোহিঙ্গাবিষয়ক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছেন।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও মানবাধিকার কাউন্সিলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি সর্বদা সচল রাখতে অব্যাহত যেসব প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে তা উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি এ বিষয়ে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। ড. মোমেন আশা করেন, নিরাপত্তা পরিষদ জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী তাদের দায়বদ্ধতা পরিপালন করবে এবং মিয়ানমার সমস্যার সমাধানে অনতিবিলম্বে ও জরুরিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী তাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদে, নিরাপত্তার সঙ্গে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক সংস্থা ও দেশ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান।

 

এই বিভাগের আরও খবর