শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

রমেক হাসপাতালে দগ্ধ রোগী বাড়ছেই

আগুনে শীত নিবারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রমেক হাসপাতালে দগ্ধ রোগী বাড়ছেই

রংপুর অঞ্চলে তীব্র শীত নেমেছে। এর হাত থেকে রক্ষা পেতে সাধারণ মানুষের অনেকেই খড়কুটা জ্বালিয়ে উষ্ণ হওয়ার চেষ্টা করছেন। আর এটা করতে গিয়ে হচ্ছেন অগ্নিদগ্ধ। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। এক সপ্তাহে আগুনের উত্তাপ নিতে গিয়ে ১২ নারী দগ্ধ হয়ে রমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, শীত যত বেশি হবে ততই রোগীর সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এ হাসপাতালে দগ্ধ রোগী রয়েছেন ৫৩ জন। এর মধ্যে  ১০ জন বার্ন ইউনিটে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫ জন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ জন এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে শীতের হাত থেকে বাঁচতে খড়কুটা জ্বালিয়ে উত্তাপ নেওয়ার সময় রংপুর ও আশপাশ এলাকায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল দুপুরে বার্ন ইউনিটে কথা হয় লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলার বিথি বেগমের (৩৫) স্বজনদের সঙ্গে। তারা জানান, কয়দিন আগে বিথি বেগম সন্তান প্রসব করেছেন। এ অবস্থায় আগুনের উত্তাপ নিতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হয়েছেন। রংপুরের দর্শনা এলাকার নাসরিন বেগম (৩৬) জানান, ১০ দিন আগে তিনি বাড়ির উঠানে খড়কুটা দিয়ে আগুনের উত্তাপ নিচ্ছিলেন। হঠাৎ তার শরীরের ম্যাক্সিতে আগুন লেগে যায়।

তিনি ১০ দিন থেকে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন। তার মতো আরও ১২ নারী শীতের হাত থেকে বাঁচতে আগুনের উত্তাপ নিতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. এম এ হামিদ পলাশ জানান,  প্রতি বছরই আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এজন্য জনগণের সচেনতা প্রয়োজন।  আমরা সব সময়ই পরামর্শ দিচ্ছি শীতের হাত থেকে বাঁচতে যাতে কেউ খড়কুটা জ্বালিয়ে আগুন না পোহায়। গরম কাপড় পরিধান করা, আগুন না পোহানো এবং বৃদ্ধ ও শিশুদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘুমাতে যাওয়া ও দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা জরুরি। এ নিয়মগুলো মানলে অগ্নিদগ্ধের সংখ্যা কমবে বলে তিনি মনে করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর