শিরোনাম
সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪ ০০:০০ টা

বেসরকারি হাসপাতালে অনিয়মই নিয়ম

স্বাস্থ্য অধিদফতর

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

বেসরকারি হাসপাতালে অনিয়মই নিয়ম

তিন দিনে চট্টগ্রামের ১৫টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানকালে বেশিরভাগ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রক্ষিতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সতর্ক ও জরিমানা করা হয়। অর্থাৎ চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলো চলছে অনিয়মের ওপর ভর করেই। এসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়মই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাধারণত রোগীরা একটু ভালো ও স্বস্তিদায়ক সেবা পেতে বেসরকারি হাসপাতালে যান। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে নগরের অভিজাত হাসপাতালগুলোতেও অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার তথ্য মিলেছে। তাহলে রোগীরা যাবেন কোথায়? অভিজ্ঞমহলের এমন প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।  

জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে নগরের প্রথম শ্রেণির বেসরকারি হাসপাতালে যেসব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা প্রকাশ পাচ্ছে, তাতে সব শ্রেণির মানুষ শঙ্কিত। কারণ আস্থা নিয়ে যে সেবা কেন্দ্রে রোগীরা যান, সেখানেই যদি এত অনিয়ম থাকে, তাহলে মানুষ আস্থা রাখবে কোথায়? তাই এখন স্বাস্থ্য বিভাগকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত কঠোর মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে সর্ষের মধ্যে যেন কোনো ভূত ওত পেতে না থাকে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে অভিযান চলছে। অভিযানে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সতর্ক এবং জরিমানা করা হচ্ছে। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে সেখানে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হয় না।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পরিচালিত অভিযানে পাঁচলাইশ জেনেটিক ল্যাবে এন্ডোসকপি ও ইসিজি বিভাগে পাওয়া যায়নি চিকিৎসক। মেডিহেলথ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্সরে বিভাগ ও আলট্রাসনোগ্রাফি বিভাগেও চিকিৎসক ছিলেন না। পাঁচলাইশের ঈগলস আই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ইসিজি বিভাগে ছিল না চিকিৎসক। তাছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স না থাকা, দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা না রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য না রাখা, ডিপ্লোমাহীন টেকনিশিয়ান দিয়ে ব্লাড কালেকশনসহ বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অনিয়ম পাওয়া যায়। এর বাইরে জামালখানের ল্যাব এক্সপার্ট, সেনসিভ (প্রাইভেট) লিমিটেড, ইনোভা হসপিটাল লিমিটেড অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ওআর নিজাম রোডের মেট্রোপলিটন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরের অন্যতম ম্যাক্স হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাবে রক্ষিত রিপোর্ট প্রদানের প্যাডে টেকনোলজিস্টের অগ্রিম স্বাক্ষর দেখা গেছে। ল্যাবটির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা সত্ত্বেও রাতের শিফটে কোনো মেডিকেল অফিসার দায়িত্ব পালন না করা, ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল পাওয়া, নিম্নমানের ডিস্ট্রিল ওয়াটার ব্যবহার হওয়া, ইমার্জেন্সিতে ইসিজি করার জন্য কোনো কার্ডিওগ্রাফার না পাওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল পাওয়া, ডিস্ট্রিল ওয়াটারের বোতলের লেভেলে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও প্রস্তুতকারকের নাম-ঠিকানা পাওয়া না যাওয়ায় ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই অভিযানে নানা অনিয়মে ন্যাশনাল হাসপাতালকেও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সার্জিস্কোপ হাসপাতাল লিমিটেডে কিউআর কোড রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকা, প্যাথলজিতে মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল পাওয়া ও নোংরা পরিবেশ পাওয়া যায়। ফলে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ডেল্টা হেলথ কেয়ার ও একুশে হাসপাতালে কিউআর কোড রেজিস্ট্রেশন না থাকায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এভাবে প্রতিটি অভিযানেই শনাক্ত হচ্ছে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা।

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর