শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৪ ০০:০০ টা

কিশোর গ্যাং ভয়ংকর খুলনায়

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

কিশোর গ্যাং ভয়ংকর খুলনায়

সিনিয়র-জুনিয়র ক্ষমতার দ্বন্দ্বে খুলনার দৌলতপুরে হুজাইফা খান নামের স্কুলছাত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। গুরুতর আহত স্কুলছাত্রকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় ২৫ মার্চ রাতে মহেশ্বরপাশা তরুণ সংঘের মাঠে সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দশম শ্রেণির ছাত্র হুজাইফা খানকে জখম করে। এ ঘটনায় পুলিশ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ১০ কিশোর অপরাধীকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে রিপন হাওলাদারের দেওয়া তথ্যে পুলিশ মহেশ্বরপাশা ‘ইডাস’ বিল্ডিংয়ের ছাদে কবুতরের খুপরি ঘর থেকে হামলায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করে। রিপন হাওলাদার ও তানভীর হাসান হামলায় জড়িত স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর নগরীর গোবরচাকায় ইমন শেখ এবং চলতি বছরে ২৩ জানুয়ারি ময়লাপোতা এলাকায় সাদিকুর রহমান নামে দুই যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুটি হত্যাকান্ডে মাদকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব, কিশোর গ্যাং ও পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি তদন্তে সামনে আসে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং তৈরি করে কিশোর ও উঠতি বয়সী তরুণরা চাঁদাবাজি, ইভ টিজিং, ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। গত দুই মাসে মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার হওয়া অধিকাংশই উঠতি বয়সী তরুণ। জানা যায়, কিশোর গ্যাংর সঙ্গে জড়িয়ে পড়া স্কুলছাত্ররা বয়সে এতই ছোট হয় যে অনেক সময় মানবিক বিবেচনায় তাদের থানা থেকেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকে আবার দামি মোবাইল সেট ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করছে। গোবরচাকা গাবতলা মোড়, হাজী ইসমাইল রোড, শেখপাড়া বাজার, খলিল চেম্বার মোড়, টুটপাড়া, রূপসা, বানিয়াখামারসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং মাথাচাড়া দিয়েছে।

সর্বশেষ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকান্ড কমাতে বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) মো. আবু নাসের আল-আমীন জানান, মাদক ও কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে অভিযান এবং তরুণ-কিশোরদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক মোটিভেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

জানা যায়, খুলনার দৌলতপুরের সন্ত্রাসী মমি বাহিনীর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটত নিরীহ মানুষের। চাঁদার দাবিতে হুমকি, কুপিয়ে জখম ও কিশোর গ্যাংয়ের মদদ দিত বাহিনী প্রধান মেহেদী হাসান মমি। ২০২৩ সালে গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে ওয়ানশুটার গান, পাঁচটি ১২ বোর কার্তুজ উদ্ধার হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান সমাজের নানা অসংগতি অস্বাভাবিকতায় খেই হারিয়ে ফেলছে উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণরা। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন কিশোর গ্যাংসহ সামাজিক অপরাধ বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর ও অভিভাবকদের অবশ্যই তাদের সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর