শিরোনাম
শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪ ০০:০০ টা

পোস্ট অফিসে জমার টাকা ফেরত না পেয়ে নারীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীর তানোর উপজেলা ডাকঘরে জমানো টাকা না পেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক নারী। বৃহস্পতিবার ওই ডাকঘরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। ওই গ্রাহকের নাম পারুল বেগম (৩৫)। তার বাড়ি তানোর পৌর এলাকার গোকুল গ্রামে। বাবার নাম ইসরাফিল হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকঘরের ভিতরে গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস নেওয়ার চেষ্টা করেন পারুল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন সেখানে ভিড় করে। পরে ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার আবদুল মালেক তাকে রাজশাহীতে ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখান থেকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়।

এদিকে তানোরে উপজেলা পোস্ট অফিসে গ্রাহকের জমানো প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পোস্টমাস্টার মোকছেদ আলীর বিরুদ্ধে। গত ১৩ মার্চ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার নামে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তিনি পিআরএলে (অবসর-উত্তর ছুটি) গেছেন। পারুল বেগম জানান, পাঁচ বছর ধরে তিনি পোস্ট অফিসে ২ লাখ টাকা জমা রেখেছেন। প্রায় ১৫ দিন আগে পোস্টমাস্টার ওই টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন টাকার কথা বললে বর্তমান পোস্টমাস্টার জানিয়ে দেন, আগের পোস্টমাস্টার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছে। মামলার রায় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পারুল বেগম বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বর থেকে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। টাকা ফেরত না পেলে আমি অফিসে এসে আত্মহত্যা করব।’

ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার আবদুল মালেক জানান, প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন আগের পোস্টমাস্টার মোকছেদ আলী। এ বিষয়ে দুদকে মামলা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে। কতজন গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ হয়েছে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সঠিক তথ্য নেই। তবে ৬০ থেকে ১০০ জন গ্রাহক হতে পারেন। ওই ঘটনা জানাজানি হলে ১৩ মার্চ মোকছেদ আলীকে পুলিশে দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে তার আত্মীয়ের জিম্মায় ছেড়ে দেয়। এখন তিনি কোথায় আছেন জানি না।’

আবদুল মালেক আরও জানান, বৃহস্পতিবার ওই নারীকে (পারুল বেগম) নিয়ে রাজশাহীতে ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলের কাছে গিয়েছিলেন। তবে তাকে পাওয়া যায়নি। একজন পরিদর্শক ছিলেন। তাকে সব কিছু বলা হয়েছে।

রাজশাহীর ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মনিরুজ্জামান বলেন, মোকছেদ আলী সরকারি কর্মচারী হওয়ায় থানায় অভিযোগ দিয়ে তাকে আটকানো সম্ভব হয়নি। পুলিশের পরামর্শে তার নামে দুদকে মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত শেষে আদালতে এ বিষয়ে ফয়সালা হবে। আর নিয়ম অনুযায়ী ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মোকছেদ আলী পেনশন সুবিধা পাবেন না।

গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে মনিরুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমাদের তো টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। টাকা দিতে পারেন ওই পোস্টমাস্টার। খোঁজ নিয়ে জেনেছেন তিনিও বাসায় নেই।’

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর