শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ জুলাই, ২০২০ ২০:৫৫

করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জ, সুস্থ হয়ে উঠেছে ৮০ ভাগ আক্রান্ত

রোমান চৌধুরী সুমন, নারায়ণগঞ্জ

করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জ, সুস্থ হয়ে উঠেছে ৮০ ভাগ আক্রান্ত
প্রতীকী ছবি

করোনার হটস্পট, এপি সেন্টার ও রেড জোন খ্যাত নারায়ণগঞ্জে আক্রান্তের ৮০ ভাগ সুস্থ হয়ে উঠেছে। এছাড়া জেলায় গত কয়েকদিনে আক্রান্তের সংখ্যা আশানুরূপভাবে কমতে শুরু করেছে।

গত কয়েক মাস ধরে নারায়ণগঞ্জের মানুষের নাম শুনলেই আঁতকে উঠত অন্যান্য জেলার মানুষ। কারণ শুরুতেই অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ প্রায় দেশের ৩২টি জেলায় করোনার বিস্তার ঘটিয়েছে। কিন্তু সেই নারায়ণগঞ্জ এখন ধাপে ধাপে সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। 

জেলা স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জেলায় আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ৫ হাজার ৩২৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের দেয়া তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলায় ২৪১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনায় সংক্রমিত ৩২ জন শনাক্ত হয়েছে। কারও মৃত্যু ঘটেনি। সুস্থ হয়েছেন ২০২ জন। 

এ পর্যন্ত জেলায় ২৬ হাজার ৪৯৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫ জন। জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ৩৯৩৯ জন। গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাসে সংক্রমণ শনাক্ত ছিল ৫ হাজার ২৯১ জন। 

সে হিসাবে জেলায় এখন করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা ৮০ ভাগই সুস্থ হয়ে উঠেছে। তবে এটা সত্যি দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে  করোনায় মৃত্যুর সংখ্যায় ঢাকার পরই  দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রায় ২৫০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা মানবতার সংগঠন 'এহসান পরিবার' জানিয়েছে চাঞ্চল্যাকর তথ্য। এই পরিবারটি জেলায় এ পর্যন্ত করোনা রোগীসহ ৯৩ জন মৃতের লাশ দাফন করেছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে 'এহসান পরিবার'-কে দায়িত্ব দেয়া হয় করোনায় আক্রান্তদের ৩ হাজার ও মৃতদের ৫ হাজার টাকা রোগীদের সামনে গিয়ে দিয়ে আসতে। সাহসী এই পদক্ষেপটি বাস্তায়ন করেছে পরিবারটি। 
গত বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের কাছে করোনা আক্রান্তদেও অর্থ পৌঁছে দিয়ে জরুরী কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়। 

এহসান পরিবারের প্রচার সম্পাদক মো: নিজাম বলেন, জেলা প্রশাসনের দায়িত্বটি ছিল করোনা রোগীর কাছে অনুদারের টাকা পৌঁছে দিয়ে তার স্বাক্ষর নিয়ে আসা। আমরা এ পর্যন্ত ২৫০ জন রোগীর সংস্পর্শে গিয়েছিলাম। 

তারা কিভাবে সুস্থ হয়েছেন তা জানতে চাইলে বেশীর ভাগ রোগী জানিয়েছেন, গরম পানির গারগল, আদা লবঙ্গ লেবু দিয়ে প্রচুর গরম পানি পান, পানি গরম করে ভাপ ও সাধারণ জ্বর ঠান্ডা কাশির ওষুধ সেবন। আর অব্যশই পরিবারের অন্য কেউ যেন আক্রান্ত না হয় সে লক্ষ্যে ঘর থেকে নিজেকে আলাদা রাখা। 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, করোনায় জেলায় মোট আক্রান্তের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়েছেন। তাদের সিংহভাগই বাড়িতে থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তবে যাদের শ্বাসকষ্ট বা নানা জটিল উপসর্গ ছিল তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর